
মুম্বই: ১৪ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের মামলায় জামিন পেলেন অভিযুক্ত। অভিযোগকারী নাবালিকার যে বয়ান সামনে এসেছে, তার উপর ভিত্তি করেই এই নির্দেশ দিল আদালত। জামিন দেওয়ার সময় সুপ্রিম কোর্ট ও আরও কয়েকটি আদালতের পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করেছেন বিচারপতি। ২০১৯ সাল থেকে জেলে ছিলেন অভিযুক্ত। অবশেষে ছাড়া পাচ্ছেন তিনি।
১৪ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, এমন অভিযোগেই পকসো মামলা হয়েছিল। শুক্রবার সেই মামলাতেই জামিন দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট। বিচারপতি মিলিন্দ যাদবের বেঞ্চে চলছিল শুনানি। বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন, ওই নাবালিকা যা করেছিলেন, তা জেনেবুঝে, সজ্ঞানেই করেছিলেন। এমনকী অভিযুক্তের সঙ্গে স্বেচ্ছায় তিন রাত কাটিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেছে আদালত।
২০১৯ সালে বান্দ্রার বাসিন্দা এক নাবালিকা দিদির বাড়ি যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তিন দিন পর তাকে প্রতিবেশী এক যুবকের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। নাবালিকার বয়স তখন মাত্র ১৪। সে জানিয়েছিল যে, ওই যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সেই সম্পর্ক মানতে রাজি ছিল না তার পরিবার। এরপর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় প্রতিবেশী ওই যুবককে।
পাঁচ বছর পর সেই যুবকের জামিন মামলায় আদালতের সামনে সাক্ষীদের বয়ান আনা হয়েছে। যেখানে ওই অভিযোগকারী জানায় যে সে নিজের ইচ্ছেয় শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিল। সেই সন্দেহ প্রকাশ করে যে দুই পরিবারের অশান্তি ও তার জেরে প্রতিহিংসার কারণে ওই যুবক গ্রেফতার কি না!
সাধারণত ১৮ বছরের আগে বিয়ে সংক্রান্ত কোনও সম্পর্ককেই মান্যতা দেয় না আদালত। নাবালিকা যদি স্বেচ্ছায় কাউকে পছন্দ করে সে ক্ষেত্রেও তার অপরিণত মনস্ক ভাবণার কোন গুরুত্ব সেই অর্থে আদালতের কাছে গ্রাহ্য হয় না। এই মামলায় সেই ধারণা অনেকটাই বদলে দিয়েছে বলে আইনজীবীদের মত। কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী সাবির আহমেদ এই ঘটনাকে ব্যতিক্রম হিসেবেই দেখছেন। তাঁর কথায়, এটাকে নিয়ম বলা যায় না। একটি আলাদা মামলা হিসেবেই দেখতে হবে। ওই যুবকের বয়স কম। তার ইতিমধ্যেই পাঁচ বছর সাজা খাটা হয়ে গিয়েছে। মেয়েটির ভালবাসা এখানে গুরুত্ব পেয়েছে।