High Court: বাপের বাড়ি যেতে অনুমতি নিতে হবে কেন? বিয়ে মানে কন্ট্রোল করার লাইসেন্স নয়: হাইকোর্ট

High Court on Marriage: হাইকোর্টে স্বামী জানান, তাঁর স্ত্রী নিজের ইচ্ছায় শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। শ্বশুরবাড়ির কোনও দায়িত্ব পালন করেননি। তিনি আরও জানান, কুলির কাজ করে রোজগার করে সংসার চালান তিনি। ওই টাকা তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।

High Court: বাপের বাড়ি যেতে অনুমতি নিতে হবে কেন? বিয়ে মানে কন্ট্রোল করার লাইসেন্স নয়: হাইকোর্ট
বিবাহিত মহিলাকে নিয়ে পর্যবেক্ষণ আদালতেরImage Credit source: TV9 Bangla

Sep 03, 2026 | 4:13 PM

কর্নাটক: বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য স্বামীর অনুমতি নিতে হবে কেন! কেনই বা নিজের বাবা-মাকে দেখতে যাওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ির সম্মতি প্রয়োজন? প্রশ্ন উঠল আদালতে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করতে স্ত্রীকে বাধ্য করতে পারেন না স্বামী।

বিবাহিত মহিলাদের জন্য বড় পর্যবেক্ষণ কর্নাটক হাইকোর্টের। স্ত্রীকে খোরপোষ দেওয়ার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সতীশ নামে এক ব্যক্তি কর্নাটক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই আবেদনও খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি চিল্লাকুর সুমালথা।

কী এই মামলা

পারিবারিক আদালতে প্রথমে মামলাটি ওঠে। স্ত্রী তাঁর ও তাঁর কন্যা সন্তানের জন্য মাসে ৩০,০০০ টাকা করে খোরপোষের দাবি করেছিলেন। পারিবারিক আদালত নির্দেশ দেয়, স্ত্রীর জন্য মাসে ৫০০০ টাকা করে ও সন্তানের জন্য মাসে ৪০০০ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে, টাকার অঙ্ক কমানোর আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন ওই ব্যক্তি।

হাইকোর্টে স্বামী জানান, তাঁর স্ত্রী নিজের ইচ্ছায় শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। শ্বশুরবাড়ির কোনও দায়িত্ব পালন করেননি। তিনি আরও জানান, কুলির কাজ করে রোজগার করে সংসার চালান তিনি। ওই টাকা তার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।

স্ত্রী অভিযোগ করেন, দিনের পর দিন হেনস্থার শিকার হয়েছেন তিনি। তাঁর স্বামীর মদ্যপান করে হেনস্থা করার কথাও উল্লেখ করেছেন আদালতে। এদিকে, স্বামীর বক্তব্য স্ত্রী বারবার বাপের বাড়ি যেতেন।

‘বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য কেন অনুমতি নিতে হবে?’ প্রশ্ন আদালতের

এই বক্তব্য শুনে বিচারপতি বলেন, “আদালত বুঝতে অক্ষম যে একজন ভারতীয় মহিলাকে তাঁর বাবা-মায়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য কেন শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেকের অনুমতি নিতে হয়?” আদালতের পর্যবেক্ষণ, শ্বশুরবাড়ির কোনও সদস্য, এমনকী স্বামীও কোনও মহিলাকে বাড়ির কাজকর্ম করা বা শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করতে বাধ্য করতে পারে না।”

বিচারপতি আরও বলেন, “বাবা-মাকে সেবা করার দায়িত্ব বর্তায় পুত্র বা কন্যার উপর, পুত্রধবূ বা জামাইয়ের উপর নয়। পুত্রধবূ বা জামাইয়ের ক্ষেত্রে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা ইচ্ছামূলক হতে পারে, বাধ্যতামূলক নয়।” ঘরের কাজও স্বামী-্স্ত্রীর মধ্যে ভাগাভাগি হওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট।

বিয়ে কখনও কন্ট্রোল করা লাইসেন্স নয়: আদালত

বিয়ে মানেই যে একজন মহিলার উপর নিয়ন্ত্রণ নয়, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত। এই কোনও হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেছে, “একজন মহিলার অধিকার আছে তাঁর কেরিয়ার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার। স্বামী কোনও ব্যাপারে জোর করতে পারে না। বিয়ে কখনই কারও স্বাধীনতাকে কন্ট্রোল করা, নির্দেশ করা, দমিয়ে রাখা বা দখলদারির লাইসেন্স নয়।” পারিবারিক আদালতের নির্দেশে কোনও হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন মনে করেনি হাইকোর্ট। স্বামীকে ৯০০০ টাকা খোরপোষ দেওয়ার নির্দেশই দিয়েছে আদালত।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us