
ধানবাদ: দেশ এখন মাওবাদী-মুক্ত। কিছুদিন আগেই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে ঝাড়খণ্ডের শীর্ষ মাওবাদী নেতা মিসির বেসরা অধরাই ছিলেন। অবশেষে কোবরা বাহিনীর ‘জালে’ ধরা পড়লেন তিনি। ঝাড়খণ্ড পুলিশ এবং সিআরপিএফ-র এলিট কোবরা ব্যাটালিয়নের রুদ্ধশ্বাস যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হলেন মাওবাদী এই শীর্ষ নেতা। তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। ধানবাদ-গিরিডি সীমানার মানিয়াদি এলাকা থেকে বেসরা ও তাঁর দুই দুর্ধর্ষ সহযোগীকে পাকড়াও করে নিরাপত্তা বাহিনী।
বছর ছেষট্টির মিসিরের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলা। সাগর ও সুনির্মল নামেও পরিচিত এই মাওবাদী নেতা। ২০০৭ সালে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু, ২ বছর পর বিহারের লাখিসরাই আদালত চত্বরে মাওবাদীরা হামলা চালিয়ে তাঁকে নিয়ে পালায়।
চলতি বছরের ৩১ মার্চ ভারত মাওবাদী-মুক্ত হবে বলে জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মাওবাদী দমনে দেশজুড়ে অভিযান শুরু হয়। চলতি বছরের ১৮ মে ছত্তীসগঢ়ের বাস্তারে একটি অনুষ্ঠানে শাহ বলেন, “আমি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি, ভারত এখন মাওবাদী-মুক্ত।” দেশ মাওবাদী-মুক্ত হলেও মাওবাদীদের পলিটব্যুরো সদস্য মিসিরের নাগাল পাচ্ছিল না নিরাপত্তা বাহিনী। অবশেষে গতকাল গোয়েন্দা সূত্রে নিরাপত্তা বাহিনী খবর পায়, সারান্ডা ও কোলহান অঞ্চলের গোপন ডেরা ছেড়ে গিরিডির দিকে গা ঢাকা দেওয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মিসির বেসরা।
নিখুঁত ইনটেলিজেন্স রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে কোবরা ও ঝাড়খণ্ড পুলিশের জওয়ানরা পুরো সীমান্ত এলাকাটি কাঁটাতারের মতো ঘিরে ফেলেন। যৌথ বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে পালানোর কোনওরকম সুযোগ পাননি মাওবাদী এই শীর্ষ নেতা।
মিসির দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অন্যতম শেষ প্রধান সক্রিয় মাওবাদী নেতা হিসেবে ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং বাংলায় অপারেশনাল কমান্ডের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন থানায় ১৫৪টির বেশি মামলা রয়েছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) দ্বারা তদন্ত করা হচ্ছে এমন তিনটি মামলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।