
নয়াদিল্লি: বাদল অধিবেশনে সংসদে বারবার অচলাবস্থার মুখে পড়েছে কেন্দ্র। এরই মধ্যে নরেন্দ্র মোদী সরকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাশ করানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে খবর, ১৩ অগস্ট সংসদের বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার পরপরই সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হতে পারে। সেখানে ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা ও পাশ করানোর চেষ্টা করবে কেন্দ্র।
সূত্রের দাবি, বাদল অধিবেশন শেষ হলেও সংসদ আপাতত মুলতুবি করা নাও হতে পারে। এতে প্রয়োজন পড়লে খুব অল্প সময়ের নোটিসে বিশেষ অধিবেশন ডাকা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যেই সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র। প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত হলেই কেন্দ্র বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিলগুলি পাশ করানোর উদ্যোগ নিতে পারে। ১৭ অগস্ট বিশেষ অধিবেশন ডাকা হতে পারে।
একসঙ্গেই আনা হয়েছিল দুই বিল-
আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং মহিলা সংরক্ষণ বিলকে একসঙ্গে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলের আওতায় আনা হয়েছিল। তবে গত এপ্রিল মাসে ডাকা তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে লোকসভায় এই বিলটি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় তা পাশ হয়নি। সেই সময় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র লোকসভা বা রাজ্যসভা—কোনও কক্ষেই প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন ছিল না। এরপর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
বদলেছে রাজনৈতিক সমীকরণ-
মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির ফলে লোকসভা ও রাজ্যসভা—দুই কক্ষেই বিজেপির অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। ফলে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যে ব্যবধান ছিল, তা অনেকটাই কমেছে। বর্তমানে লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে ৩৬০ জন সাংসদের এবং রাজ্যসভায় ১৬৪ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।
একইসঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফল এবং ইন্ডিয়া জোটে ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিনের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্কের অবনতির পর বিজেপি এখন ডিএমকের লোকসভার ২২ জন সাংসদের সমর্থন পাওয়ার দিকেও নজর রাখছে। কারণ, সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাধ্যতামূলক।
ডিএমকের অবস্থান কী হবে?
তবে আসন পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি তামিলনাড়ুতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু। ক্ষমতায় থাকাকালীন ডিএমকে এই ইস্যুর বিরোধিতাকেই জোরালোভাবে প্রচার করেছিল। তাই ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত স্ট্যালিনের দল বিজেপিকে সমর্থন করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।