
পর্বতারোহণের জগতে তিনি ছিলেন এক অবিশ্বাস্য অধ্যায়। ২০১৯ সালে মাত্র ৬ মাস ৬ দিনে বিশ্বের ১৪টি ৮,০০০ মিটারের বেশি উঁচু শৃঙ্গ জয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্বকে। অতিরিক্ত অক্সিজেন ছাড়াই ২৯ বার ঘুরে এসেছিলেন প্রাণঘাতী ‘ডেথ জোন’ থেকে। শুধু তা-ই নয়, ২০২১ সালের হাড়হিম করা শীতে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক পর্বত ‘কে-টু’ (K2) প্রথমবার জয় করে চূড়ায় গেয়ে উঠেছিলেন নেপালের জাতীয় সংগীত। তাঁর জীবনগাথা নিয়ে তৈরি ‘ফরটিন পিকস: নাথিং ইজ ইম্পসিবল’ নেটফ্লিক্সে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
তবে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পাকিস্তানের ব্রড পিকে হঠাৎ তুষারঝড়ের কবলে পড়ে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে এই কিংবদন্তি নেপালি-ব্রিটিশ পর্বতারোহীর জীবনাবসান ঘটে।
এবার সেই প্রয়াত বীরকেই এক অনন্য সম্মান জানালেন বিজ্ঞানীরা। হিমালয়ের দুর্গম মিয়াগদি অঞ্চলে প্রায় ২,৯০০ মিটার উঁচুতে আবিষ্কৃত একটি নতুন উদ্ভিদ প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে তাঁর স্মরণে—‘ইমপেটিয়েনস নিমসপুরজাই’ (Impatiens nimspurjai)। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই উদ্ভিদটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, যা আবারও প্রমাণ করল হিমালয়ের কোলে লুকিয়ে থাকা অপরিসীম জৈববৈচিত্র্যের কথা।
এই আবিষ্কারের পর নেপালের মিয়াগদি অঞ্চল নিয়ে পর্বতারোহী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রথাগত এভারেস্ট রুটের বাইরে এটি হতে পারে ভ্রমণার্থীদের এক অনন্য গন্তব্য। ধৌলাগিরি বেসক্যাম্প, খোপরা ডান্ডা, রূপসে জলপ্রপাত কিংবা বিশ্বখ্যাত কালীগণ্ডকী করিডরের অপূর্ব প্রাকৃতিক শোভা উপভোগ করার পাশাপাশি স্থানীয় হোমস্টেতে থেকে প্রকৃতির একদম কাছাকাছি সময় কাটানোর দারুণ সুযোগ রয়েছে এখানে।