
রাঁচি: ঘড়িতে তখন সকাল ১১ টা। স্কুল শুরু হয়ে গিয়েছে। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা যে যার ক্লাসে পঠন-পাঠনে ব্যস্ত। আচমকা গুলির শব্দ শোনা গেল স্কুলের ভিতর থেকে। চমকে উঠে স্টাফরুমের দিকে ছুটে গেলেন সবাই। কিন্তু স্টাফরুম তখন ভিতর থেকে বন্ধ করা। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ডাকে স্কুল কর্তৃপক্ষ। দরজা খুলেই চোখ কপালে শিক্ষকদের। মেঝে রক্তে ভেসে যাচ্ছে। পড়ে আছেন দুই শিক্ষক ও এক শিক্ষিকা। রাঁচি থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের পোড়াইয়াহাট এলাকার একটি স্কুলে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, প্রেমের সম্পর্কের জেরেই এমন পরিণতি হয়েছে।
এক শিক্ষক ও এক শিক্ষিকাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ অপর শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গুলি চালানোর পর নিজেকেও গুলি করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে।
গোড্ডার পুলিশ সুপার নাথু সিং মীনা সংবাদমাধ্যম পিটিআই-কে জানিয়েছেন, দুজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপরজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত দুজনেরই মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। তৃতীয়জন আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেই অনুমান পুলিশের।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে, ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্কের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। গ্রামবাসী ও পড়ুয়াদের বক্তব্য থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, এক শিক্ষিকার প্রেমে পড়েছিলেন দুই শিক্ষক। মৃত শিক্ষিকার নাম সুজাতা মিশ্র ও শিক্ষকের নাম আদর্শ সিং। আহত শিক্ষকের নাম রবি রঞ্জন। তাঁর কাছ থেকে দুটি দেশীয় পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একটিই ব্যবহার করা হয়েছিল।