
নয়া দিল্লি: ‘দেশে সঙ্ঘের কাজ গতি পাচ্ছে। ছড়িয়ে পড়ছে ব্যাপকভাবে। আমার পূর্ণ বিশ্বাস যে সঙ্ঘের এই কাজ সমগ্র বিশ্বে পৌঁছে যাবে এবং ভারতকে বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।’ সংস্কার হওয়ার পর আরএসএস-এর দফতর ‘কেশব কুঞ্জ’-এর প্রবেশ অনুষ্ঠানে এমনটাই বললেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। সঙ্ঘের কাজ আরও ছড়িয়ে দিতে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রচেষ্টা চালাতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বুধবার ভবনের প্রবেশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জনসাধারণের উদ্দেশে এই ভাষণ দেন মোহন ভাগবত।
আরএসএস প্রধান আরও বলেন, “আশা করা যায় যে সঙ্ঘের স্বেচ্ছাসেবকদের আচরণ পবিত্রই থাকবে। আজ সঙ্ঘের অবস্থা বদলে গিয়েছে তবে উদ্দেশ্য যেন পরিবর্তন না হয়। সমৃদ্ধির প্রয়োজন আছে, তবে তা সীমার মধ্যে থাকা উচিত।”
এদিন সঙ্ঘের বিভিন্ন সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন মোহন ভাগবত। নাগপুরে প্রথম অফিস ‘মহল’ খোলার কথা বলেন তিনি। তিনি জানান যেহেতু দিল্লি দেশের রাজধানী এবং সেখান থেকেই সবকিছু পরিচালিত হয় তাই সেখানে একটি অফিসের প্রয়োজনীয়তা ছিল।
তাঁর কথায়, ‘মনে রাখতে হবে যে অবহেলা এবং বিরোধিতা আরএসএস-কে সতর্ক রাখে, কিন্তু এখন অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং আরও সতর্ক থাকতে হবে।’
শ্রী রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ, পূজ্য গোবিন্দদেব গিরি মহারাজ বলেছেন যে আজ শ্রী গুরুজির জন্মবার্ষিকী, তাই এটি একটি পবিত্র দিন। শিবাজিরও জন্মবার্ষিকীও ছিল বুধবার। সন্ত রাঘবানন্দজি মহারাজ উল্লেখ করেছেন, দৃঢ় সংকল্পের কারণেই সবকিছু সম্ভব হয়েছে। সঙ্ঘ সমাজের প্রতি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছে এবং সমাজের প্রতিটি অংশের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছে। অতএব, সঙ্ঘের কাজ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শ্রী কেশব স্মৃতি কমিটির সভাপতি শ্রী অলোক কুমার কেশব কুঞ্জের উন্নয়ন সম্পর্কে কথা বলেন এদিন। ১৯৩৯ সাল থেকে দিল্লিতে কাজ করে আসছে সঙ্ঘ। তারপর ঝান্ডেওয়ালানের এই স্থানেই একটি ছোট ভবন নির্মিত হয়েছিল। ১৯৬২ সালে সেটি আরও সম্প্রসারিত হয় এবং অন্যান্য কক্ষ তৈরি করা হয়। শ্রী কেশব স্মৃতি কমিটি ১৯৬৯ সালে গঠিত হয়েছিল। ৮০-র দশকে প্রয়োজন অনুসারে ভবনটি আরও সম্প্রসারিত করা হয়।
কেশব কুঞ্জ ১-এ মূলত তিনটি টাওয়ার রয়েছে। সাধনা, অনুপ্রেরণা ও উপাসনা। রয়েছে একটি আকর্ষণীয় অশোক সিংহল মিলনায়তন যা সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ। এছাড়াও রয়েছে কেশব গ্রন্থাগার, একটি ওপিডি হাসপাতাল, একটি বইয়ের প্রকাশন।
কেশব কুঞ্জের বৈদ্যুতিক চাহিদা মেটাতে ১৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে, বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য ১৪০ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি এসটিপি কেন্দ্র রয়েছে। রয়েছে একটি হনুমান মন্দির।
এদিন অনুষ্ঠান চলাকালীন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে, উত্তর অঞ্চল সঙ্ঘচালক পবন জিন্দাল, দিল্লি প্রদেশ সঙ্ঘচালক ডঃ অনিল আগরওয়াল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা, সঙ্ঘের সহ-সাধারণ সম্পাদক ডঃ কৃষ্ণ গোপাল, অরুণ কুমার, সিনিয়র প্রোমোটার শ্রী সুরেশ সোনি, সহ-প্রোমোটার প্রধান শ্রী নরেন্দ্র ঠাকুর, শ্রী ইন্দ্রেশ কুমার, শ্রী প্রেম গোয়েল, শ্রী রামেশ্বর ও আরও অনেকে।