
মুম্বই: ১৮৭০ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) দেশের জাতীয় গানের মর্যাদা পেয়েছে। জাতীয় গানের অপমান করলে শাস্তির বিধান দেওয়া হয়েছে সদ্য পাশ হওয়া নতুন আইনে। প্রথম দুটি স্তবকের বদলে সম্পূর্ণ গানটি গাইতে হবে বলে প্রোটোকলও তৈরি করা হয়েছে। সেই ‘বন্দে মাতরম’ নিয়েই এবার মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। সবার পক্ষে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া সম্ভব নয় বলেই মত তাঁর। সেই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুলেছেন আর এক অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত।
এক সংবাদসংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে শর্মিলা ঠাকুর বলেছেন, “ভারতে বিভিন্ন ধর্ম, বিশ্বাসের মানুষ বসবাস করেন। অনেকেই এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন, বহু ঈশ্বরে নয়। বন্দে মাতরমের একটি স্তবকে সব দেবতার বন্দনা করা হয়েছে। পড়লেই বুঝতে পারবেন, দেবতাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে। যাঁরা এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন, তাঁদের পক্ষে দেবতাদের নাম উচ্চারণ করা কঠিন। তাই সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে গেলে প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়া ভালো।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় শর্মিলা ঠাকুরের ওই সাক্ষাৎকারের অংশ পোস্ট করে নিজের মত প্রকাশ করেছেন কঙ্গনা রানাওয়াত। তাঁর মতে, এক কবি যা লেখেন, তার সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের সংযোগস্থাপন করা উচিৎ নয়।
অভিনেত্রী তথা সাংসদ লিখেছেন, “একটি সাহিত্যের অংশ নিয়ে এমন সংকীর্ণ আর কৃত্রিম মনোভাব কেন! কবিতা বা গানে এক একটা শব্দ রূপক হিসেবে ব্যবহার হয়। কবি তাঁর মনের কল্পনা দিয়ে শব্দচয়ন করেন। আর বন্দে মারতম গানটি স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। শক্তিকে জাগ্রত করার কথা বলেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।” শর্মিলা ঠাকুর কীভাবে ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে ওই গানকে জড়িয়ে দিচ্ছেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন কঙ্গনা।
স্বামী বিবেকানন্দের কথাও লিখেছেন কঙ্গনা। তাঁর বিখ্যাত উক্তির কথা বলেছেন, যেখানে বিবেকানন্দ যুবশক্তি সম্পর্কে বলেছিলেন, “আমি চাই লোহার মতো পেশী, ইস্পাতের স্নায়ু, আর তার ভিতরে বাস করবে বজ্রের মতো মন”। ওই উক্তি সম্পর্কে কঙ্গনা বলেছেন, “এখানে তো বিবেকানন্দ আবহাওয়ার কথা বলছেন না, শক্তিকে জাগ্রত করার কথা বলছেন। হিন্দু-মুসলিম মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন একে অপরের সঙ্গে চলুন।” সব শেষে শর্মিলা ঠাকুরের প্রতি সম্মানও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বাদল অধিবেশনে সংসদে প্রিভেনশনস অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনর (সংশোধনী) বিল,২০২৬ পাশ হয়েছে। ২৯ জুলাই রাজ্যসভা এবং ৩০ জুলাই লোকসভায় বিলটি অনুমোদিত হয়। পরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতিও মেলে। নতুন আইনে ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদা রক্ষায় অতিরিক্ত আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় গানের অপমান করা বা তার পরিবেশনে বাধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।