
নয়া দিল্লি: ভোটের প্রার্থীদের সম্পত্তি কত? কে, কত কোটির মালিক? রাজনৈতিক মহলে এসব আলোচনা হয়েই থাকে। বিশেষত ভোট এগিয়ে এলেই বাড়ে চর্চা। কার গ্যারাজে কটা গাড়ি, কার স্ত্রীর নামে ক খানা বাড়ি, কোন প্রার্থীর জীবনযাত্রা বিলাসবহুল- ভোটের মুখে দল নির্বিশেষে এ সব নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে ইতিমধ্য়েই। এরই মধ্যে প্রার্থীদের সম্পত্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। একজন প্রার্থীর সব অস্থাবর সম্পত্তির হিসেব দেওয়া জরুরি নয় বলে পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের। ২০১৯ সালের একটি মামলায় এমনটাই বলেছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ।
ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় প্রার্থীরা সম্পত্তির হিসেব দেন। সেখানে তাঁর ও তাঁর পরিবারের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি কথা উল্লেখ করা হয়। অসমের এক বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি তাঁর পূর্ণ সম্পত্তির হিসেব দেননি হলফনামায়। সেই মামলায় শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, যে সম্পত্তি প্রার্থীর বিলাসবহুল জীবনের প্রমাণ দেয়, তা ছাড়া বাকি সম্পত্তি উল্লেখ না করলেও চলবে। ভোটারদের ওই সব তথ্য জানতেই হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই বলেও উল্লেখ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
২০১৯ সালে অরুণাচল প্রদেশের তেজু থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন কারিখো ক্রি। ভোটের ফল প্রকাশের পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী নানে তায়াং। অভিযোগ ছিল, কারিখো ক্রি তাঁর সব সম্পত্তির হিসেব দেননি হলফনামায়। তাই ওই ফলাফল বাতিল করার আর্জি জানান তিনি। গুয়াহাটি হাইকোর্ট ওই মামলায় কারিখো ক্রি-র সেই ভোট বাতিল বলে নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে।
অভিযোগ ছিল, কারিখোর স্ত্রীর নামে থাকা তিনটি গাড়ির কথা উল্লেখ করেননি তিনি। পরে জানা যায়, ওই গাড়িগুলির কোনওটি উপহারে পাওয়া, কোনওটি হলফনামা পেশ করার আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওই গাড়িগুলিকে এখন আর সম্পত্তি হিসেবে ধরা যাবে না। প্রার্থীদের সম্পর্কিত তথ্য ভোটারদের জানার অধিকারও চরম সত্য নয় বলে উল্লেখ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি সঞ্জয় কুমার নির্দেশনামায় উল্লেখ করেছেন, ‘যে তথ্য নিয়ে ভোটারদের মাথাব্যাথার কারণ নেই, তা হলফনামায় উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।’ আদালত আরও উল্লেখ করেছে, প্রার্থী ও তাঁর পরিবারের কাছে থাকা সব অস্থাবর সম্পত্তির কথা উল্লেখ না করলেও চলবে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, পোশাক, জুতো, বাসনপত্র, আসবাবের কথা উল্লেখ করতে হবে না, যদি না তার মূল্য অত্যন্ত বেশি হয়।
শীর্ষ আদালত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছে, যদি কোনও প্রার্থীর কাছে একাধিক মূল্যবান ঘড়ি থাকে, তাহলে তা উল্লেখ করতে হবে। তবে সাধারণ ঘড়ি থাকলে তা বলার দরকার নেই। এ ব্যাপারে কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই বলেও উল্লেখ করেছে আদালত। কারিখো ক্রি-র মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।