
নয়া দিল্লি: পেপার লিক ইস্যুতে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। শিক্ষা সচিবকে সরানোর একদিনের মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি থেকে একাধিক কর্মীকে সরানো হয়েছে ইতিমধ্যেই। আর এবার পেপার লিক রুখতে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই টাস্ক ফোর্সের মাথায় থাকছেন ইনফোসিস-এর ফাউন্ডার নন্দন নিলেকানি। তবে শুধু মোদী সরকার নয়, ইউপিএ আমলেও নিলেকানির উপর ভরসা রেখেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও।
নন্দন মোহনরাও নিলেকানি দেশের প্রযুক্তির দুনিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। ১৯৫৫ সালের ২ জুন বেঙ্গালুরুতে জন্ম নিলেকানির। মুম্বইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি পান তিনি। এরপর ১৯৭৮ সালে মুম্বইয়ের ‘পাটনি কম্পিউটার সিস্টেমস’-এ তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।
১৯৮১ সালে নারায়ণ মূর্তির ও আরও পাঁচ সহকর্মীর সঙ্গে মিলে ‘ইনফোসিস’ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ইনফোসিস দেশের অন্যতম বড় আইটি সংস্থা হিসেবে পরিচিত। সংস্থার ওই পদে থাকার পর ২০০২ সালে তিনি সিইও হিসেবে নিযুক্ত হন। সিইও হিসেবে তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদে ইনফোসিসের আয় প্রায় ছ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ২০১৭ সালে বিশাল সিক্কা ওই সংস্থার সিইও পদ ছাড়ার পর নিলেকানি নন এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে পুনরায় ইনফোসিসে ফিরে যান।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নিলেকানির সবচেয়ে বড় অবদান আধার কার্ড। ২০০৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তাঁকে ক্যাবিনেট পদমর্যাদা দিয়ে আধার-এর জন্য কাজ করার আহ্বান জানান। ‘ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ (UIDAI)-এর নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল তাঁকে। ইউআইডিএআই-এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিলেকানির হাত ধরেই ‘আধার’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়। তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বর্তমানে আধার ভারতের ডিজিটাল ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আধারের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে পরবর্তীতে অনেক বিতর্ক হলেও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই আধার প্রশংসিত হয়েছে।
ইউপিআই তৈরি ও বিস্তারের ক্ষেত্রেও নিলেকানির অবদানের কথা আলোচিত হয়। ২০১৪ সালে নিলেকানি কংগ্রেসে যোগ দিয়ে বেঙ্গালুরু দক্ষিণ আসন থেকে লোকসভা নির্বাচনে লড়েন। প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। তবে তিনি বিজেপি প্রার্থী অনন্ত কুমারের কাছে পরাজিত হন এবং এরপর থেকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখা শুরু করে। আবারও প্রবেশ করেন প্রযুক্তির দুনিয়ায়।
পরীক্ষার কারচুপি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৎপর মোদী সরকার। পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে প্রযুক্তির উপর জোর দিতে চান মোদী। সেই কারণেই নিলেকানির উপর ভরসা রেখেছেন তিনি।