
রাঁচি: শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী যদি অসুরক্ষিত বোধ করেন, যদি হেনস্থা আর অত্যাচারের অভিযোগ তোলেন, তাহলে সেই স্ত্রীকে কখনই সেই বাড়ি ফেরার জন্য চাপ দেওয়া যাবে না। স্ত্রীকে জোর করে ঘরে ফেরানোর নির্দেশ খারিজ করে দিল ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট বলেছে যে, শুধুমাত্র স্বামীর অধিকারের যুক্তিতে স্ত্রীকে তাঁর কাছে ফিরে যেতে বাধ্য করা যায় না।
স্বামীর সঙ্গে পুনরায় দাম্পত্য জীবনে ফেরার আগে নির্যাতনের অভিযোগও বিবেচনা করার কথা বলেছে হাইকোর্ট। দাম্পত্য জীবনে গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ থাকলে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত নতুন করে দাম্পত্য জীবনে ফেরার আবেদন খারিজ করতে পারে। এমনই পর্যবেক্ষণ আদালতের। ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের বিচারপতি সুজিত নারায়ণ প্রসাদ ও বিচারপতি সঞ্জয় প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চ একটি মামলায় পারিবারিক আদালতের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে। পারিবারিক আদালত আবেদনকারী স্ত্রীকে স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বসবাস শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিল।
২০১৩ সালের ২৭ মে ওই মুসলিম দম্পতির বিয়ে হয়। স্বামীর দাবি, বিয়ের প্রায় দু’বছর পর থেকেই তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। স্ত্রী চেয়েছিলেন, শ্বশুর-শাশুড়ির থেকে আলাদা থাকবেন। পরবর্তীতে তাঁরা প্রায় দু’বছর বেঙ্গালুরুতে ছিলেন। পরে ফের শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান।
স্বামীর অভিযোগ, ২০২২ সালে স্ত্রী শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং তাঁর কাছে আর ফিরে আসতে অস্বীকার করেন। স্বামীর দাবি, পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা হলেও কোনও সমাধান হয়নি। এরপর স্ত্রীকে দাম্পত্য জীবনে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়ার জন্য পারিবারিক আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। আদালত স্ত্রীকে ফেরার নির্দেশ দেন।
স্ত্রীর অভিযোগ, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে নির্যাতন করতেন, শারীরিক অত্যাচারও করতেন। তাঁর দাবি, আলাদা থাকার জন্য তাঁর আইনসঙ্গত কারণ ছিল।
স্ত্রীর আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আচরণ ছিল নিষ্ঠুর। যুক্তিসঙ্গত কারণেই স্বামীর সংসার ত্যাগ করেন স্ত্রী। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে ফের স্বামীর সঙ্গে বসবাসের নির্দেশ দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয় বলেও তাঁরা যুক্তি দেন।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, কোনও স্ত্রী যদি এমন গুরুতর নির্যাতনের শিকার হন, যদি স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়া তাঁর জন্য নিরাপদ না হয়, তাহলে আদালত তাঁকে স্বামীর সঙ্গে থাকতে বাধ্য করার নির্দেশ নাও দিতে পারে।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবন পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই কারণেই পারিবারিক আদালতের নির্দেশ খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট।