
কলকাতা: নিট (NEET) ইস্যুতে ধর্মতলায় হয়েছিল অশান্তি। সেখানে সাংবাদিকদের মারধর, নিগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় গ্রেফতার হয় ষোলো জন। ধৃতদের পুলিশ খালি পায়ে ঘোরায়। পরে আবার গতকালের শুনানিতে সরকারি আইনজীবী জানান, যেহেতু পুলিশে উদ্দেশে অভিযুক্তরা জুতো ছুড়েছিল বলে অভিযোগ, সেই কারণে তাঁদের খালি পায়ে হাঁটানো হয়েছে। এরপর এই ঘটনায় মঙ্গলবার ধৃতদের জামিন দিল আদালত। লালবাজার সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই করা হবে বাকি পদক্ষেপ।
মঙ্গলবার ধৃত ১৬ জনকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হয়। অভিযুক্তদের জেল হেফাজতে নির্দেশ দেওয়ার পরে ফের শুনানি হয় আদালতে। সেই সময়ই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে তুলে ধরে জামিনের আবেদন করে অভিযুক্তের আইনজীবী। এখানে উল্লেখ্য, আজই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। সেই নির্দেশই কোর্টে উল্লেখ করেন অভিযুক্তদের তরফে থাকা আইনজীবী।
এজলাসে অভিযুক্তর আইনজীবী বলেন, “জামিন চাই। আগেই জেল হেফাজত হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টে খবরটা পেলাম। তাই আবেদন করছি আবার।” সেই সময় সরকারি আইনজীবীর সওয়াল, “সুপ্রিম কোর্টে যা বলা হয়েছে তা নিয়ে এই আদালত যেটা চাইবে করুক।” বিচারকের মন্তব্য, “যাঁদের নামে আগে অভিযোগ আছে সেটাও দেখতে হবে। তদন্তকারী অফিসার সেটা জানান।”
সরকারি আইনজীবীর তখন উল্লেখ, “৫ জনের বিরুদ্ধে আগেই পুলিশে অভিযোগ আছে।” পাল্টা অভিযুক্তের পক্ষের আইনজীবী বলেন, “পুলিশ যা বলবে সেটা বললেই হবে নাকি?” বিচারকের মন্তব্য, “আপনারা আমার কাছে আবেদন করেছেন আমি বলেছিলাম কাল আসতে।” অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও কেন জেল হেফাজত। আমরা একা নই সরকারি প্রতিনিধিরাও গেছিলেন।”
এ দিকে, লালবাজার সূত্রে জানা যাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই বাকি পদক্ষেপ করা হবে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত যা যা গাইড লাইন দিয়েছে সেই অনুযায়ী কাজ করা হবে। আদালতের নির্দেশ, গ্রেফতারির তালিকায় নাবালক কেউ থাকেল রিলিজ করতে হবে। তবে লালবাজারের তরফে জানা গিয়েছে, সেই তালিকায় কেউ নেই। পাশাপাশি যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন,তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। পুরোনো যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নয়। তবে, যে ছ’জনের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা রয়েছেন তাঁদের বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে। তদন্ত চলবে।