
কলকাতা: আড়াই বছরের পুত্রসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কেন আত্মহত্যা করেছেন হালতুর দম্পতি? এই নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। উঠে আসছে দেনার কথা। আবার পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের অভিযোগও সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত সোমনাথ রায়ের মামা প্রদীপ কুমার ঘোষাল এবং মামি নীলিমা ঘোষালকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
মঙ্গলবার কসবার হালতু বাড়ি থেকে আড়াই বছরের শিশু-সহ তিনজনের দেহ উদ্ধার হয়। মৃত সোমনাথ রায় ও তাঁর স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আড়াই বছরের পুত্রের দেহ নিজের সঙ্গে বেঁধে গলায় দড়ি দিয়েছিলেন সোমনাথ।
সন্তানকে নিয়ে ওই দম্পতি কেন আত্মহত্যা করলেন, তার কারণ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। সোমনাথ পেশায় অটোচালক ছিলেন। আড়াই বছরের পুত্রের অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁর কিছু টাকা দেনা হয়েছিল বলে জানা যায়। আবার সামনে আসে, সোমনাথের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের কথা। মৃত সুমিত্রার পরিবার দাবি করে, সম্পত্তি নিয়ে প্রায়ই বিবাদ হত।
এরপর আত্মহত্যার ঘটনায় দুটি অভিযোগ দায়ের করে মৃত সুমিত্রার পরিবার। একটি করেন মৃত সুমিত্রার দিদি সুপর্ণা ভৌমিক। তিনি সোমনাথের মামা-মামির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করেন। অন্য অভিযোগটি দায়ের করেন সুমিত্রার বাবা বিশ্বনাথ ভৌমিক। তিনি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে সোমনাথের মামা-মামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। এদিকে, মৃতদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। দেওয়ালে লেখা ছিল একটি বার্তা। জানা গিয়েছে, সেখানে দেনার কথা উল্লেখ রয়েছে। সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের কথাও লেখা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সোমনাথের মামা-মামিকে পুলিশ গ্রেফতার করার পর প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরেই ছেলেকে নিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন দম্পতি?