
কলকাতা: ধর্মতলায় ছাত্র আন্দোলনের চরম বিশৃঙ্খলা। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের উপর হামলার অভিযোগ। এবার এই ঘটনায় ৬টি অভিযোগ দায়ের হল থানায়। হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়া, সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় ৫টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গতকালই ধর্মতলার ঘটনার কড়া নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এদিকে, ঘটনার পরই তৎপর পুলিশ। ইতিমধ্যেই বেশকিছু ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়েছে। একাধিক ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বেশ কিছু অপরাধীদের চিহ্নিতও করা হয়েছে বলে খবর। এরই মধ্যে একাধিক ধারায় পুলিশে মামলা রুজু করা হয়েছে।
শুক্রবার নিটের প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে বাম ছাত্র সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র চেহারা নেয় ধর্মতলা। অভিযোগ, মিছিলের মাঝেই হঠাৎ উড়ে আসে এলোপাথাড়ি ইট-বোতল-লাঠি,জুতো। আক্রান্ত হন পুলিশ কর্মী। গুরুতর জখম হন বহু সাংবাদিক। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত টিভি-৯ বাংলাও। গুরুতরভাবে জখম চিত্র সাংবাদিক দীপঙ্কর দাশগুপ্ত ও মাখন পাত্র। আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিক সুমন মহাপাত্রও। আহতদের এসএসকেএমে দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। একইসঙ্গে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাসও দেন তিনি।
ধর্মতলার ঘটনায় একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তার মধ্যে রয়েছে বেআইনি জমায়েত, বেআইনি জমায়েত থেকে অপরাধ সংগঠিত করা, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং সঙ্গে মারধর করা, রাস্তা অবরোধ করা, শান্তি বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে উস্কানি ও বিদ্বেষ ছড়ানো, সরকারি আদেশ অমান্য করা, একই উদ্দেশ্য নিয়ে একাধিক ব্যক্তি অপরাধ সংগঠিত করা।
লালবাজার সূত্রে খবর, যাঁরা এই ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন, ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে তাঁদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। শুক্রবার ধর্মতলায় সাংবাদিকদের নিগ্রহের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লেখেন, “সাংবাদিকদের ওপর এই ঘৃণ্য হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। প্রতিবাদের নামে গুণ্ডারাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
এদিকে, সাংবাদিক হেনস্থার প্রতিবাদে মিছিল করবেন বিজেপি বিধায়করা। দুপুর ১টার সময় কালো ব্যাচ পরে বিধানসভা থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত মিছিল করবেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, আন্দোলন যাদেরই হোক, সাংবাদিকদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। আসল দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেবে রাজ্য সরকার।