
কলকাতা: ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ (NIA)। কেন্দ্রীয় এই সংস্থার প্রধান কাজই হল সন্ত্রাস সম্পর্কিত যে কোনও অপরাধের তদন্ত করা। বিস্ফোরণ থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার, এরকম যে কোনও ঘটনার তদন্ত করে এনআইএ। ২০২২ সালের এক বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে ৬ এপ্রিল ভোরে পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগরে গিয়েছিল এনআইএর একটি দল। সেখানেই তাঁদের উপর আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। মহিলারা আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। পাল্টা ভূপতিনগর থানায় এনআইএর বিরুদ্ধে ওঠে শ্লীলতাহানির অভিযোগ। এই ঘটনাকে সামনে রেখে এই মুহূর্তে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। দেখে নেওয়া যাক ভূপতিনগরের ঘটনাক্রম থেকে এনআইএর কাজের ক্ষেত্রে এক্তিয়ার সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়।
২০২২ সালের ২ ডিসেম্বর। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর-২ ব্লকের অর্জুননগর পঞ্চায়েত এলাকার নাড়ুয়াবিলা গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। ভূপতিনগর থানা এলাকার মধ্যে পড়ে এটি। সেই ঘটনায় মারা যান তিনজন। আদালতের নির্দেশে এনআইএ তদন্তভার পায়। ঘটনার পরপরই মনোব্রত জানা নাড়ুয়াবিলায় তৃণমূলের বুথ সভাপতি হন। এই মনোব্রতকেই ভূপতিনগর বিস্ফোরণকাণ্ডে এনআইএ একাধিকবার নোটিস দিয়ে ডেকেছিল বলে খবর। কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি। অন্যদিকে বলাই মাইতি নামে অর্জুননগরের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতিকেও ডাকা হয় এনআইএর তরফে। তিনিও হাজিরা দেননি বলে খবর।
৬ এপ্রিল ভোরে এনআইএর টিম পৌঁছয় নাড়ুয়াবিলায়। প্রায় ৭টি গাড়ি সেখানে যায় বলে খবর। মনোব্রতর বাড়ি থেকে কিছু দূরেই একদল মহিলা লাঠি হাতে এনআইএর গাড়ির উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। পাথর ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। এক এনআইএ আধিকারিক জখমও হন। এরপর পুলিশ যায় ঘটনাস্থলে। তখন প্রায় সকাল ৬টা। তারাই এনআইএ আধিকারিকদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এর ঘণ্টা দু’য়েক পর বলাই ও মনোব্রতকে থানায় নিয়ে গিয়ে গ্রেফতার দেখানো হয়। কলকাতায় এনে তোলা হয় বিশেষ এনআইএ আদালতে।
এই ঘটনায় বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অপব্যবহার করছে। ৮ এপ্রিল বাঁকুড়া থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের এখানে পরশু রাতে গিয়ে মহিলাদের বিরক্ত করেছে। এখন বলছে মহিলারা হামলা করেছেন। কেন যাবেন মাঝরাতে? ল’ অ্যান্ড অর্ডার রাজ্যের বিষয়। পুলিশকে না জানিয়ে রাত ৩টেয় গিয়ে মহিলাদের উপর হামলা করেন। ৫টার সময় পুলিশকে খবর দেন। এটা হতে পারে নাকি?” অন্যদিকে রবিবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূলের জমানায় ইডি-এনআইএ সবই আক্রান্ত হচ্ছে। তৃণমূল সংবিধানবিরোধী।”
কেন্দ্রীয় এজেন্সির বক্তব্য, ভূপতিনগরে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আইন মেনেই ভূপতিনগরে অভিযানে যাওয়া হয়েছিল। ছিল সার্চ ওয়ারেন্টও। বিনা প্ররোচনায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময়ে মহিলা সিআরপিএফও ছিল। এনআইএ সূত্রে খবর, গত শনিবার তল্লাশি অভিযান শুরু হওয়ার আগেই এনআইএর এক অধিকারিক ভূপতিনগর থানায় পৌঁছেছিলেন। ডিউটি অফিসারের কাছে পুলিশ ফোর্স (সহকারি) চেয়েছিলেন। ভোর সাড়ে ৪টের আগেই থানায় পৌঁছেছিল এনআইএ। তারপর ৫টি লোকেশনে তল্লাশি শুরু হয়। তল্লাশি চালাতে প্রায় ৩০ জন সিআরপিএফ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ব্যাকআপের জন্য ছ’টি টিম ছিল। একটি সিআরপিএফ ফোর্স টিম রাখা ছিল। এনআইএ সূত্রে এও খবর, ৬টা নাগাদ যখন বিক্ষোভ, হামলা হয়, তার অনেক আগেই থানায় জানানো হয়েছিল যে তারা তল্লাশি চালাতে এসেছে।
ভারতীয় দণ্ডবিধির যে সমস্ত নিয়ম আছে তা মেনে এনআইএর তদন্ত চালাতে কোনও বাধা নেই। নিয়ম মতে রাতে মহিলাদের গ্রেফতার বা রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে পারে না তারা। এর বাইরে তদন্তে কোনও বাধা নেই। তারা কোনও তদন্তে প্রয়োজন হলে পুলিশকে যুক্ত করতেও পারে, আবার নাও পারে। পুলিশকে জানিয়েই তদন্তে যেতে হবে এরকম কোনও বাধ্য বাধকতা নেই। এনআইএর স্পেশাল কোর্টের সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়েই গিয়েছিল তারা।