
কলকাতা: ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র সুবিধা পেতে অপেক্ষা করছেন রাজ্য়ের লক্ষাধিক মহিলা। ফর্ম প্রকাশ হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। সেই ফর্ম খুঁটিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে, আবেদনকারী সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই বার্তা দিয়েছেন, কোনও বেনোজল যাতে না ঢুকে পড়ে, সেদিকে নজর দেওয়া হবে। সেই কারণে শুধু আবেদনকারীর তথ্য নয়, তাঁর পরিবারের প্রত্যেক সদস্য সম্পর্কেও খুঁটিনাটি তথ্য নেবে সরকার। তবেই বিবেচনা করা হবে, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না।
পরিবারের প্রধান সদস্য বা বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রীর পরিচয়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আধার নম্বর থেকে শুরু করে রেশন কার্ডের আইডি- সবই দিতে হবে।
আবেদনকারীর পরিবারের সব সদস্যের নাম, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ, আধার নম্বর, পরিবারের প্রধান সদস্যের সঙ্গে কী সম্পর্ক, সেই তথ্য জানাতে হবে।
আবেদনকারীর পরিবারের সব সদস্যের ব্যাঙ্কের নাম (যেখানে অ্যাকাউন্ট আছে), ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, আইএফএসসি (IFSC) কোড দিতে হবে।
প্রত্যেক সদস্যের এপিক নম্বর, বিধানসভা কেন্দ্র ও পার্ট নম্বর দিতে হবে।
পরিবারের সব সদস্যের স্বাস্থ্য বিমা সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করতে হবে ফর্মে। সরকারি নাকি বেসরকারি বিমা, বিমার অঙ্ক কত সব জানাতে হবে।
পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নাম ও প্যান নম্বর উল্লেখ করার জায়গা রয়েছে ফর্মে।
পরিবারের কোন সদস্য কী চাকরি করেন, সরকারি নাকি বেসরকারি, ব্যবসা করেন কি না, সব তথ্যই দিতে হবে।
পরিবারের সদস্যরা শিক্ষিত নাকি নিরক্ষর, তাঁদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা কী, তা উল্লেখ করার জায়গা রয়েছে।
পরিবারে যতজন শিশু সদস্য রয়েছে, তাদের নাম, স্কুলের নাম, সরকারি নাকি বেসরকারি স্কুল সেটা জানাতে হবে। মাদ্রাসায় পড়লে, সেটাও জানাতে হবে ফর্মে।
এছাড়া, পরিবারের কোনও সদস্য সরকারি কোনও সুবিধা পায় কি না, সেটাও উল্লেখ করতে হবে। সবদিক খুঁটিয়ে দেখতে চায় রাজ্য সরকার। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে যোগ্য, তাঁরাই যাতে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পান, সেদিকে নজর দেওয়া হবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপক তালিকায় থাকা অন্তত ৩০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।