
শিলিগুড়ি: রাস্তার নাম ভিআইপি (VIP) রোড। কিন্তু তাতে ভিআইপি-র চিহ্ন মাত্র নেই। এবড়ো-খেবড়ো রাস্তা। তার উপর আবার খানা-খন্দে ভরা। বৃষ্টি হলেই জমে জল। তখন ভিআইপি রোড নাকি পুকুর ধরতে পারবেন না। সরকার আসছে, সরকার যাচ্ছে, কিন্তু রাস্তার হাল একই থাকছে। এবার তেমনই ক্ষোভ উগারেলন এলাকার বাসিন্দারা।
শিলিগুড়ির ফুলেশ্বরী মোড় থেকে ইস্টার্ন বাইপাসকে কানেক্ট করে এই ভিআইপি রোড। রাস্তায় উপরেই পড়ে ‘ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার রেক পয়েন্ট’ ও ‘ওয়েল ইন্ডিয়ার’ ডিপো। প্রায় প্রতিদিন শ’য়ে শ’য়ে ট্রাক চলে এই রাস্তায়। এই রাস্তা দিয়ে ভিআইপি-রা যাতায়াত করেন। আবার এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু এত সবের মধ্যেই রাস্তার অবস্থা বেহাল।
সাধারণ মানুষের একাংশ কেউ ক্ষোভের সঙ্গে বলছেন, রাস্তা এমনই থাকুক। তাতে চোর পালানোর আগে ধরা পড়বে। কেউ আবার সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এক বাইক আরোহী বলেন, “প্রতিদিন রিস্ক নিয়ে যেতে হচ্ছে আমাদের। যে কোনও সময় পড়ে যেতে পারি। চাকা স্কিট করতে পারে। একটাই দাবি দ্রুত এই রাস্তা যেন সারাই হয়।” গোপাল পাল বলেন, “এই রাস্তাই দরকার। যেমন আছে থাক। এর থেকে আর কী বলব বলুন তো? চোর চুরি করে পালাতে পারবে না।” প্রতাপ বিশ্বাস নামে এক টোটোচালক বলেন, “রোজই একটা না একটা দুর্ঘটনা ঘটে। কারও হাত ভাঙে, কেউ পরে যায়। বৃষ্টির জল জমে বুঝতেও পারে না কোথায় খানা-খন্দ। অর্ধেক দিন টোটো উল্টে যায়। নতুন সরকারের কাছে প্রার্থনা রাস্তা যেন সারিয়ে দেয়।” এখানে উল্লেখ্য, রাস্তা সারানোর জন্য আগেই মুখ্য়মন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পুজোর আগেই রাস্তা সারিয়ে ফেলতে হবে। তিনি বলেন, “সঠিকভাবে টেন্ডার করতে হবে। ১০ অক্টোবরের মধ্যেই সব রাস্তা ঠিক করার কাজ সেরে ফেলতে হবে। এর জন্য পূর্ত দফতরকে ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। এর আগের সরকার ভেন্ডারদের ঠকিয়েছে। ওদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করতে হবে।”