
কলকাতা: মধ্য রাতে কলকাতার বুকে ভয়াবহ আগুন। মঙ্গলবার রাত দুটো নাগাদ পার্ক স্ট্রিটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতটাই ঘিঞ্জি হোটেল রুমগুলি যে অনেকেই বের হতে পারেননি। আগুনে পুড়ে যে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে পাঁচজনই বাংলাদেশি। এই আগুনেই পুড়ে মৃত্যু হয়েছে বাংলাদেশের এক সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারের।
কলকাতায় পার্ক স্ট্রিট চত্বরে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল ‘শিখা ইন’-এ আগুন লাগে রাত দুটো নাগাদ। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছিল। নিমেষে কালো বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভরে যায় হোটেলের করিডর। অনেকে হোটেলের বাথরুমে লুকিয়ে পড়েন। যারা রুম থেকে বেরতে পেরেছিলেন, তারা হোটেলের পিছনের লোহার সিড়ি দিয়ে নেমে আসেন। তবে নয়জন কোনওভাবেই বেরতে পারেননি।
পার্ক স্ট্রিটের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আফসানা শিম্মি, তিন বছরের সন্তান স্বর্ণাশীষ দত্ত ও শ্বশুর মোঃ আকরাম আলী। সকলেরই মৃত্যু হয়েছে আগুনে দমবদ্ধ হয়ে।
দেবাশীষ দত্ত বাংলাদেশের দৈনিক ‘আজকের পত্রিকা’ ও ‘চ্যানেল নাইন’-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি। স্থানীয় দৈনিক ‘আজকের আলো’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক-ও। জানা গিয়েছে, দেবাশীষ দত্ত তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট ভারতে এসেছিলেন। তাঁর এক কন্যা সন্তানও আছে। বাংলাদেশে রয়েছে সে। ওই সাংবাদিক তাঁর পরিবারকে নিয়ে এসেছিলেন বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা করাতে। চিকিৎসা শেষে বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তাঁরা কলকাতার ওই হোটেলে এসে উঠেছিলেন। আর ওই এক রাতেই সব শেষ!
দেবাশীষ দত্তের আত্মীয় থাকেন মালদহে। মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলের আগুনে দেবাশীষ ও তাঁর পরিবারের মৃত্যুর খবর পেয়েই কৃষ্ণ নন্দ ছুটে আসেন কলকাতা পুলিশের মর্গে। তিনি বলেন, “আমি দুপুরের দিকে জানতে পারি। বাংলাদেশ থেকে ফোন আসে। হাই কমিশনের নম্বর দিল, কথা বললাম। বেশ কিছুদিন আগে ওঁরা বেঙ্গালুরুতে এসেছিল স্ত্রী ও সন্তানের চিকিৎসা করাতে। বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় এসে এই হোটেলে উঠেছিল।”