
কলকাতা ও বারুইপুর: ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ। দিনভর উত্তপ্ত বারুইপুর। আবার গণপিটুনিতে মৃত্যু এক অভিযুক্তের। এবার বারুইপুরকাণ্ডের নিন্দা করে মুখ খুললেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। নাবালিকার পরিবারের পাশে রয়েছেন বলে জানালেন। ঘটনাটি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলেছেন সায়নী। একইসঙ্গে গণপিটুনিতে মৃত্যুরও নিন্দা করলেন তিনি। বললেন, কারও আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই।
কী বললেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী?
বারুইপুরকাণ্ড নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সায়নী লেখেন, ‘বারুইপুরে ঘটে যাওয়া নারকীয় ঘটনাটির প্রেক্ষিতে আমি স্তম্ভিত এবং মর্মাহত। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই। এই মুহূর্তে সামাজিক, মানসিক ও প্রশাসনিকভাবে নাবালিকার পরিবারের পাশে আছি।’ এরপরই তিনি জানান, ‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আমার আলোচনা হয়েছে এবং উনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে রাজ্য সরকার অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং অতি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চরম শাস্তি দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর। দোষীদের গ্রেফতারি এবং বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য একটি SIT গঠন করা হয়েছে। আমি তাঁকে দ্রুত এবং জরুরি পদক্ষেপ করার জন্য ধন্যবাদ জানাই। স্থানীয় সাংসদ হিসেবে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগে থেকে তদন্তের কাজ যাতে সঠিক এবং দ্রুত সম্পন্ন হয়ে তার জন্য প্রতিনিয়ত সচেষ্ট আছি।’
নাবালিকার মৃত্যুর পর গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যুরও নিন্দা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সায়নী লেখেন, ‘ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে জনরোষের জেরে গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তারও তীব্র নিন্দা জানাই। এইরকম ঘটনায় উত্তেজনা স্বাভাবিক হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারুর নেই। শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং স্থানীয় জনগণের কাছে আবেদন করছি যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে পুলিশকে তদন্তে সাহায্য করে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রত্যেকে এগিয়ে আসুন।’
এদিন রাতে নাবালিকার ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ কাঁটাপুকুর মর্গ থেকে গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল)-র নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি SIT গঠন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পুলিশ ক্যাম্প ভাঙচুর, পুলিশকর্মীদের মারধর, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, রাস্তা অবরোধ- এই সমস্ত বিষয়েও পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করবে।