
কলকাতা: ৮৬ বছরের ‘তরুণ’ তিনি। এখনও মিছিলে সামনের সারিতে হাঁটেন। চড়া রোদেও সভায় বক্তব্য রাখেন। বর্ষীয়ান সেই সিপিএম নেতা বিমান বসু দিল্লি গেলেন চিকিৎসার জন্য। দিল্লি এইমস-এ চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন তিনি। কী হয়েছে তাঁর? এই নিয়ে সিপিএমের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে দলীয় সূত্রে খবর, রুটিন চেক আপের জন্য দিল্লি গিয়েছেন বর্ষীয়ান এই বাম নেতা।
বিমান বসুর কী হয়েছে, তা জানা না গেলেও সিপিএম সূত্রে খবর, কিছুদিন আগে দিল্লি এইমস(AIIMS)-এ চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন বর্ষীয়ান এই বাম নেতা। সেইসময় তাঁকে ফলো আপের জন্য ফের হাসপাতালে যেতে বলা হয়েছিল। ফলে চিকিৎসার ফলোআপ করাতেই এবার দিল্লি এইমসে গিয়েছেন বিমান। সিপিএমের তরফে এই নিয়ে কেউ মুখ না খুললেও সূত্রে খবর, বর্ষীয়ান নেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কিছু হয়নি।
গত ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসে বিমান বসু আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএম-র রাজ্য সদর দফতরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তারপর টিভি৯ বাংলাকে তাঁর ছোটবেলার স্বাধীনতা দিবসের কথা জানিয়েছিলেন। স্মৃতির সরণি বেয়ে জানিয়েছিলেন, দেশ যখন স্বাধীন হয়, তখন তাঁর সাত বছর বয়স। তাঁদের বাড়িতে জাতীয় পতাকা লাগানো হয়েছিল। আর খাওয়া দাওয়া হয়েছিল।
তবে স্বাধীনতার পরের বছরের একটি ঘটনা এখনও তাঁর স্পষ্ট মনে রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালের স্বাধীনতা দিবসে তাঁদের বাড়ির উল্টোদিকের রাস্তায় একটি বাড়িতে সাহেবরা থাকতেন। বিমানের কথায়, “ওই বাড়িতে তখন সাহেবরা থাকতেন। ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা দিবসে তাঁরা ইউনিয়ন জ্যাক (ব্রিটেনের জাতীয় পতাকা) উড়িয়েছিলেন। তা দেখে অনেকে হইহই করে যান।” বয়সে ছোট হলেও সেদিন তাঁরাও এর প্রতিবাদ করেছিলেন বলে জানান। তারপর ব্রিটেনের পতাকা নামিয়ে ভারতের পতাকা তোলা হয়।
বয়স বাড়লেও তিনি যে এখনও ‘তরুণ’, তা বারবার নিজের কর্মদক্ষতায় বুঝিয়ে দিয়েছেন বিমান। ফলে তাঁর হঠাৎ দিল্লি এইমসে যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ছড়ায়। তারপরই দলীয় সূত্রে জানা যায়, রুটিন চেক আপের জন্য দিল্লি গিয়েছেন বিমান বসু।
এদিকে, প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যকে এদিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আলিপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। পেটে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্টজনিত কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেশ কিছু পরীক্ষা করা হয়েছে। বাকি রিপোর্ট দেখে পরবর্তী চিকিৎসার দিকে এগোবেন চিকিৎসকরা।