
কলকাতা: এসআইআর (SIR) জটে বাদ পড়েছিল নাম। বাদ পড়েছিল বাবার নামও। আর তার জেরেই চাকরি চলে যাওয়ার অবস্থা তৈরি হয় ‘অগ্নিবীর’ স্কিমে কর্মরত এক যুবকের। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে, ট্রাইবুনালে কোনওক্রমে মেলে স্বস্তি। আকাশ সরকার নামে ওই যুবককে চাকরি বাঁচাতে আদালত পর্যন্ত ছুটতে হয়।
আকাশ ও তাঁর বাবা ফারুকের নাম এসআইআরে আটকে গিয়েছিল। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর ট্রাইবুনালে আবেদন করেন তাঁরা। গত এপ্রিল মাসে আবেদন করেন। কিন্তু নিষ্পত্তি হয়নি। এদিকে, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতি বিভাস পট্টনায়ক গত ১৭ জুন নির্দেশ দেন, আকাশ ও তাঁর বাবার করা আবেদনের শুনানি যেন দ্রুত শেষ করা হয়। এই নির্দেশের পরই গত ২৫ জুন ট্রাইবুনালে তাদের আবেদনের নিষ্পত্তি হয়। ভোটার তালিকায় তাদের নাম আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়। নাম ফিরে আসায় পুলিশ ‘ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ দেয়। ফলে, অগ্নিবীর হিসেবে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনও সমস্যা থাকে না।
গত বছরের নভেম্বর মাসেই পুলিশের ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পেয়েছিলেন আকাশ। কিন্তু তার বৈধতা ৬ মাসেই শেষ হয়ে যায়। তাই পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু দিনের পর দিন আবেদন পড়েই থাকে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০২৫-এর নভেম্বর আর ২০২৬-এর জুন মাসের মধ্যে কী এমন বদলে যেতে পারে?
বারবার আবেদনের পর জানিয়ে দেওয়া হয়, এসআইআরে নাম বাদ যাওয়ায় আবেদন গৃহীত হচ্ছে না। আকাশের তরফে আইনজীবী জানান, আকাশের ঠাকুমা-ঠাকুরদার নাম ২০০২-এর এসআইআর তালিকায় ছিল। তিনি আদালতে সওয়াল করেন, “এসআইআর কখনও আকাশের নাগরিকত্ব নির্ধারণ করতে পারে না। বারবার রাজ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে। ওঁর চাকরি নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। দ্রুত আকাশের আর্জি শোনা না হলে এই সমস্যা থেকে অব্যাহতি পাবে না আকাশ।” আইনজীবী আদালতে আরও মনে করিয়ে দেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স চাওয়া হয় শুধুমাত্র এটা জানার জন্য যে আকাশের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের মামলা আছে কি না। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য ছিল, এসআইআর তালিকায় নাম না থাকলে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়া সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তরফে আইনজীবী অনামিকা পাণ্ডে জানান, এসআইআর থেকে নাম বাদ গেলে নিয়ম মতো নির্বাচন কমিশন বিষয়টি ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসে জানায়। এ ক্ষেত্রেও সাতদিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।