
কলকাতা: সশরীরে হাজিরা দিতেই হবে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে। স্পষ্ট জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বেআইনি নির্মাণ ও জবরদখল নিয়ে একটি মামলায় ভর্ৎসনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। তিনবার দায়সারা রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। সেইসময়ই বিচারপতি জানিয়ে দিয়েছিলেন, হলফনামা ও রিপোর্ট নিয়ে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে জেলাশাসককে। তবে, আজ ভার্চুয়ালি হাজিরার আবেদন জানিয়ে ফের হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল। কিন্তু, সেই আবেদন খারিজ করে দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী।
আজ ফের আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়েন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া। এদিন, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবেদন করেন, যদি জেলাশাসকের হাজিরা এগিয়ে আনা যায়। সেইসঙ্গে ভার্চুয়ালি হাজিরার আবেদনও করেন তিনি। আগের হলফনামা সঠিক ছিল না স্বীকার করে নিয়েছেন এজি। কিন্তু, আবেদন খারিজ করে দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘জেলাশসকের উত্তরে সন্তুষ্ট নয় কলকাতা হাইকোর্ট। তিনটি রিপোর্টে সন্তোষজনক কিছু নেই। ডিস্ট্রিক্ট ল অফিসারকে দিয়ে জেলাশাসক হাইকোর্টে হলফনামা জমা করছে। ওনাকে এজলাসে সশরীরে এসেই কৈফিয়ত দিতে হবে। ভার্চুয়াল হাজিরা হবে না। সশরীরে হাজিরার শুনানির দিনও এগোনো যাবে না। জেলাশাসকের কাছ থেকে একাধিক বিষয় জানতে চায় আদালত।’ উল্লেখ্য, আগামী ২৩ জুলাই সকাল সাড়ে দশটায় উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়াকে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
উল্লেখ্য, VIP থেকে উল্টোডাঙা পর্যন্ত বেআইনি নির্মাণ ও জবরদখলের বিরুদ্ধে মামলা চলছে কলকাতা হাইকোর্টে। রাস্তার ধারে বেআইনি পার্কিং প্লেস ও বিয়েবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ তুলে ২০২২ সালে জনস্বার্থ মামলা করেন জনৈক অর্ধেন্দু নাগ। জবরদখলর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় তৎকালীন জেলাশাসককে। তারপর বারবার জেলাশাসক বদল হয়েছে। কিন্তু, রিপোর্ট জমা পড়েনি। গত ১৫ জুন বিরক্ত বেঞ্চ জানায়, রিপোর্ট না দিলে জেলাশাসককে ডেকে পাঠাবে আদালত। ১০ জুলাই যে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়, তাতেও উল্লেখ করা ছিল না যে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে। এরপরই আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় জেলাশাসককে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী মন্তব্য করেছিলেন,“জেলাশাসককে আসতে বলুন। উনি কি নিজেকে ডিভিশন বেঞ্চের চেয়েও বড় মনে করেন? গ্রুপ ডি স্টাফ ফাইল করছেন রিপোর্ট?…আমাদের মনে হচ্ছে, ইচ্ছে করেই নির্দেশ অমান্য করছেন। ” ডিভিশন বেঞ্চের অন্য বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় বলেন, “প্রধান বিচারপতিকে অসম্মান করছেন। আপনি এত ব্যস্ত?” এরপরই উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়াকে সশরীরে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ।