
কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পরই অবৈধ কয়লা খনির বিরুদ্ধে সিআইএসএফের (CISF) বড় সাফল্য। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জিরো কোল লিকেজ’ (Zero Coal Leakage) উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF) পশ্চিমবঙ্গের কয়লা খনি অঞ্চলগুলোতে অবৈধ খনন, চুরি, মজুতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডেও অভিযান চালায় CISF। আর দুই রাজ্যে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার ৪২৮ মেট্রিক টনেরও বেশি কয়লা।
খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫৭ (MMDR Act, 1957)-এর অধীনে এই চিরুনি তল্লাশি চালানো হয় দুই রাজ্যে। জানা গিয়েছে, গত ৪ জুলাই থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানেই ৪২৮.৩৪ মেট্রিক টনেরও বেশি কয়লা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ৪টি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। আর অভিযান চালানোর সময় একটি ট্রাক, ১৩টিরও বেশি মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিসিসিএল (BCCL), ইসিএল (ECL) এবং সিসিএল (CCL)-এর কয়লা খনি অঞ্চলগুলিতে এই অভিযান চালানো হয়।
সিআইএসএফ সম্পূর্ণ অপারেশনটি সফল করতে স্থানীয় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করেছে। কয়লা পাচার রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মানুষের নজরদারির পাশাপাশি ড্রোন সার্ভিল্যান্স, আকস্মিক পরিদর্শন এবং ট্রানজিট-রুট মনিটরিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। দেশের মূল্যবান খনিজ সম্পদ রক্ষা এবং জাতীয় সম্পত্তি সুরক্ষায় আগামিদিনেও এই ধরনের অভিযান জারি রাখবে বলে জানিয়েছে সিআইএসএফ। পাঁচ দিনের এই অভিযানের পর খনি এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে সিআইএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে।
তৃণমূলের আমলে বাংলায় অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন, কয়লা পাচারের অভিযোগ বারবার উঠেছে। কয়লা পাচারে নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের নেতাদের। এমনকি, নাম জড়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। রাজ্যে পালাবদলের পরই CISF যেভাবে অভিযানে নেমেছে, তাতে অবৈধ কয়লা খনন বন্ধ হবে বলে আশাবাদী অনেকে। আবার কয়লা চুরিতে কারা যুক্ত, সেই তথ্যও সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।