
কলকাতা: তারাতলার গুদাম বিপর্যয় থেকে শুরু করে নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় পুলিশ যে তৎপরতা দেখিয়েছে, তার বারবার প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার লালবাজারের অনুষ্ঠানে এসে ফের পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ তিনি। তবে, রাজ্য পুলিশের পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শূন্যপদ পূরণ থেকে পুরনো গাড়ি বদলানো, থানার পরিকাঠামোর উন্নতিতে বেশ কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তাঁর আশ্বাস, “ওয়েলফেয়ার বোর্ডের জন্য পুলিশের সামান্য বেতন থেকে চাঁদা তোলার দরকার নেই।”
বৃহস্পতিবার তারাতলা গুদাম বিপর্যয়ের ঘটনায় দ্রুত উদ্ধারকাজের জন্য কলকাতা পুলিশের ১০ জনকে পুরস্কৃত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, কলকাতার পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা রাখতে গিয়ে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ইতিপূর্বে পোস্তা, গার্ডেনরিচ আরও অনেক দেখেছি কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। কিন্তু তারাতলায় ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার সম্ভব হয়। সেনা কিছু সময় পরে গিয়েছিল। কিন্তু শুরুতেই কলকাতা পুলিশ, ফায়ার ব্রিগেড পৌঁছয়। যারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জীবন বাঁচান তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানাতেই হবে। তারাপীঠের ঘটনায় রামপুরহাট পুলিশ এবং রামপুরহাট ফায়ার ব্রিগেড ২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করার ক্ষেত্রে দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করেছে। পুলিশ মন্ত্রী হিসাবে আমি চাই গ্রাউন্ডে যারা কাজ করছেন, তাঁদের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।”
পুলিশে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রতি এক লক্ষ মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ রয়েছেন মাত্র ১০৬ জন। সেখানে উত্তরপ্রদেশে অনেক বেশি। প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য পুলিশের সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত ২০০ জন করাই লক্ষ্য সরকারের। ৪৩ হাজার পদে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বলেন, “ওবিসি জট ছিলো সেটা ইতিমধ্যেই কাটিয়ে ওঠার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিয়োগ শুরু করুন। পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান এখানে রয়েছেন। আপনাকে বলছি, পুলিশে ম্যানপাওয়ার বাড়াতে হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উত্তর প্রদেশে ছয় মিনিটে পুলিশ রেসপন্স করে। সেখানে এখানে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। এই সমস্যা সমাধানের উপায় লোকসংখ্যা বাড়ানো। এর জন্য প্রতিটি থানায় জরুরি পরিষেবা ‘১১২’-র জন্য চারটি করে ডেডিকেটেড গাড়ি দিতে হবে। প্রথম দফায় একটা করে দেওয়ার জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে। মহালয়ার দিন চালু করার কথা বলেছি। পরের দফায় দু’টো করে দেওয়া হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নিচুতলার পুলিশ কর্মীরা বলছি আপনাদের আর্থিক প্রোটেকশন আমার দেব। অক্টোবর মাসে রেশনে দেড় হাজারের পরিবর্তে দুই হাজার পাবেন। ২০ শতাংশ ডিএ সহ বেতনও অ্যাডভান্স পাবেন। মহিলা পুলিশ কর্মীদের যাতে খুব বেশি দূরে পোস্টিং না হয়, কাছাকাছি পোস্টিং দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাবনা-চিন্তা করতে হবে। আগে নন গেজেটেড পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন দু’টি ছিল। একটা লাল, একটা তেরঙা। এটা অনেক আগের কথা বলছি। কমিউনিস্টদের কথা বলছি। পরের সরকার পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড তৈরি করেছিল। বাস্তবে তা পলিটিক্যাল হয়ে গিয়েছিল। সেটা আমরা ভেঙে দিয়েছি। পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড এমনিতেই একজন রয়েছেন। আইপিএস দায়িত্বে রয়েছেন। এটাকে সম্পূর্ণ করুন। সব ক্যাটাগরি থেকে সদস্যদের নিন। কনস্টেবল থেকে নিন, হোমগার্ড থেকে নিন, ইন্সপেক্টর থেকে নিন। কমিটি করুন। আলাদা ফান্ড দেব আমরা। ওয়েলফেয়ার বোর্ডের জন্য পুলিশের সামান্য বেতন থেকে চাঁদা তোলার দরকার নেই। ভারতীয় ন্যায়সংহিতা মেনে করুন।”
রাজ্য পুলিশকে শুভেন্দুর কড়া বার্তা, “ঝাড়গ্রামে এক কন্সটেবল টাকা সহ ধরা পড়েছে। লোভ সম্বরণ করতে হবে। আগামী মাসের মধ্যে ACB-কে আরও স্ট্রং করে দেওয়া হবে। মনে রাখতে হবে রাষ্ট্রহিত, দেশপ্রেম। দেশবিরোধী কার্যকলাপের ক্ষেত্রে কারও কথা শোনার দরকার নেই। আর জি করের মত ঘটনা বা পকসো আইনের আওতায় কিছু হলে কারও জন্য অপেক্ষা করার দরকার নেই।”