
কলকাতা: কয়লা এবং গরু পাচার মামলায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত বিনয় মিশ্রর বাবা – মা দু’জনেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। দিল্লির বিশেষ আদালতকে শেষ পর্যন্ত জানাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আদালতে ইডি-র দেওয়া নথি অনুযায়ী ইডি’র সন্দেহ দুজনেই বিনয় এর মত ভানুয়াতু দ্বীপ রাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
ইডি-র বক্তব্য, বিনয় দেশ ছাড়ার আগেই ২০১৯ সালে দেশ ছাড়েন তাঁর মা ললিতা।
২০২০ সালে বিনয়ের আগেই দেশ ছাড়েন বাবা তেজ বাহাদুর। বিনয়কে হাতে পেতে ইন্টারপোলের সাহায্য নিচ্ছে সিবিআই।
সূত্রের খবর, ভানুয়াতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়ম মেনেই বিনয়কে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। সেই সময় খতিয়ে দেখা হয় তার কোনও অতীত অপরাধের খতিয়ান আছে কিনা।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিকের দেওয়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে ক্লিন চিট দেওয়া হয় বিনয়কে। ওই সংশাপত্রে ২০১৫ থেকে ২০২০ জুন পর্যন্ত বিনয়ের কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই বলে জানিয়েছিল কলকাতা পুলিশ।
তবে ভানুয়াতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিনয়কে এদেশের আদালত দোষী সাব্যস্ত করলে তার নাগরিকত্ব খারিজ করা হবে। কেবল বিনয় মিশ্র নয়, গরু পাচার মামলার আরও তিন প্রধান অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির, জাহাঙ্গির আলম এবং মেহদি হাসান – তিন ভাই একই ভাবে দেশের বাইরে আশ্রয় নিয়েছে।
২০২০ সালে ভানুয়াতু ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট প্রোগ্রাম ( মূলত টাকা দিয়ে নাগরিকত্ব কেনার পদ্ধতি) এর মাধ্যমে ২০০০ জনের বেশি বিদেশিকে ওই দেশের নাগরিকত্ব দেয়। বিনয়ের মতো ওই সময়ে ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ করে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ভাই যারা প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার ক্রিপ্টো কারেন্সি তছরুপ করে পালায়।
ওই তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়ান কুখ্যাত মোটর সাইকেল গ্যাঙের এক সদস্য।
সিরিয়ার এক ব্যবসায়ী যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদকে অর্থ দিয়ে মদত দেওয়ার অভিযোগ এনেছে আমেরিকা, সেই ব্যবসায়ীও ওই একই সময়ে ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব নেন।
কয়লা এবং গরু পাচার মামলার তদন্ত শেষ করে যখন বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য আদালত তদন্তকারী সংস্থাগুলির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে তখন এই তথ্য অস্বস্তি বাড়াচ্ছে ইডি – সিবিআই-এর।