
কলকাতা: পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে হরমুজ প্রণালীতে। এই আবহে বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) ব্যবহারকারীদের জন্য স্বস্তির খবর। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৭৪ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে কলকাতায় একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের নতুন দাম হল ৩০৮১.৫০ টাকা। ১ জুলাই থেকে নতুন দাম কার্যকর হল। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম কমায় উপকৃত হবেন হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকানের মালিকরা। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম কমলেও গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রইল।
গত কয়েকমাসে কেন বেড়েছিল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত বাধে। যার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি সরবরাহে টান পড়ে। ভারতীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলির আমদানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। এক সময় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২,০০০ টাকার নিচে থাকলেও, ধারাবাহিকভাবে দাম বাড়ার ফলে তা বেড়ে ৩২৫৫.৫০ টাকায় পৌঁছে যায়। এতে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ক্যাটারিং শিল্পের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়।
এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নতি হতেই কমল দাম-
গত সপ্তাহ থেকে হরমুজ প্রণালীতে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। সংঘাত থামাতে এবং শান্তি আলোচনা নিয়ে মউ স্বাক্ষর করে আমেরিকা ও ইরান। তারপরই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে। এর আগে সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার দেশীয় তেল শোধনাগারগুলিকে প্রোপেন ও বিউটেনের ব্যবহার বাড়িয়ে এলপিজি উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছিল।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার ফলে বাণিজ্যিক এলপিজির সরবরাহের উপর থাকা সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে যে সরবরাহের গতি ছিল, তা ফিরে এসেছে। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম কমলেও এই মাসে গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দাম কমানো নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে কলকাতায় রান্নার গ্যাসের দাম ৯৬৮ টাকা-ই রইল।
মে মাসের শুরুতে একধাক্কায় বাণিজ্যিকি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় হাজার টাকা বেড়েছিল। গত কয়েকমাসে ধারাবাহিকভাবে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধির ফলে অনেক হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকানে খাবারের দাম বেড়েছে। এখন বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১৭৪ টাকা কমায় ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। এখন তাঁরা খাবারের দাম কমান কি না, সেটাই দেখার।