
কলকাতা: শিরোনামে আবারও হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট। তবে ৩০ বি নয়, এটি ৮০ এ হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট। বাড়ির নাম ‘সোনার তরী’। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি এটি। চারতলা বাড়িটি নাকি দাঁড়িয়ে আছে এক দখল করা জমির উপর! বাড়ি সামনে রাস্তা। আর রাস্তার উল্টো পারে মস্ত গ্যারেজ। সেই গ্যারেজের জমিও নাকি অজিতের নিজের নয়! এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন প্রতিবেশী রঞ্জনা হাজরা। তবে অজিক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দাবি, এ জমি তাঁর কেনা, চাইলে দলিলপত্রও দেখাতে পারেন তিনি।
৮০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসিন্দা রঞ্জনা হাজরা। তাঁর দাবি, অজিতের বাড়ি ও অজিতের ওই গ্যারেজের জমি আসলে তাঁদের। দখল করে অজিত চারতলা বাড়ি বানিয়েছেন বলে অভিযোগ।
রঞ্জনার দাবি, এলাকায় তাঁদের পূর্ব পুরুষের নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসা। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের রাস্তার দুপারে তাঁদের চার পুরুষের বেশ কিছু সম্পত্তি আছে। বেশ কয়েকটি ঠিকা ও কেনা জমি আছে তাঁদের। বারবার সেগুলো দেওয়ার জন্য তাঁদের পরিবারের উপর চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সম্প্রতি জনতার দরবারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন তিনি।
রঞ্জনার ভাই বলেন, পারিবারিক জমিতে থাকা ওই গ্যারেজটা ভাড়ায় দিয়েছিলেন তিনি ছিল। এটাই ছিল তাঁদের অন্যতম আয়ের উৎস। দাদুর কেনা জমি বলে দাবি করে তিনি বলেন, “১৯৯৯ সালে এটাও দখল করে নেওয়া হয়। আমাকে মেরে হিঁচড়ে হিঁচড়ে কালীঘাট থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শান্তনু সিনহা বিশ্বাস তখন ওসি ছিলেন। উনি (অজিত বন্দ্যোপাধ্য়ায়) এখানে কোনওদিন থাকতেন না। মেরেমুরে ঢুকে গিয়েছেন। রাতারাতি দখল করেছেন।”
এতদিন এই পাড়ায় মিডিয়া ঢুকত না বলে কিছু জানানো সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ। রঞ্জনার ভাই বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছি। পুরোপুরি ভরসা আছে এই সরকারের উপর।”
হাজরা পরিবারের পুরো অভিযোগ অস্বীকার করে অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই বাড়ির জমি কেনা। দলিলপত্র সবই আছে। দখলের গল্প যেটা বলা হচ্ছে… আসলে ওর কাকার জমি ও দখল করে বসে আছে। মামলা এখনও কোর্টে আছে। দখলের কোনও জায়গাই নেই।” তিনি আরও বলেন, “প্রয়োজন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরাও কাগজপত্র দেখিয়ে আসব।” হামলার অভিযোগও অস্বীকার করেন।