
কলকাতা: হালিশহরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ,হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাপ চড়ছে রাজ্য-রাজনীতিতে। এই ঘটনায় বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল (TNC)। শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ঘটনার পিছনে বিজেপির কোনও হাত নেই। গাড়িতে হামলার তীব্র নিন্দাও করেন। যদিও, মমতার ঘটনায় কোনও ভুল দেখছেন না দিলীপ ঘোষ। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিরোধী দল থাকাকালীন কীভাবে তাঁর উপর, বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার হয়েছে। দিলীপের কথায়,শমীক ভট্টাচার্য পার্টির নীতির কথা বলেছেন। তিনি তাঁর কথা বলেছেন। এই বিষয়ে দু’জনেই ঠিক বলে দাবি মন্ত্রীর।
হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণালকে আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এটাও সমর্থন করি না যে কুণাল ঘোষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যখন ডাকাত রানি বলেছিলেন তখন কেউ কিছু বলেনি। কাল সাধারণ মানুষ ওঁকে ডাকাত রানি বললে সেটা দোষ হয়ে গেল? কুণাল ঘোষ ওঁকে ডাকাত রানি বলে দলে প্রমোশন পেল। মুখপাত্র হল। সাধারণ সম্পাদক হল। পরে বিধায়ক হয়ে গেল। সেখান থেকে মানুষ অনুপ্রেরণা পেয়ে কাল ডাকাত রানি বলেছে। জুতো,ডিম কালচার নিয়ে এসেছে।”
এরপরই দিলীপ অভিযোগ করেন, তাঁর উপরও ইট নিয়ে হামলা করা হয়েছিল। বলেন, “আমি নিজে ইট খেয়েছি। আমার গায়ে এখনও দাগ আছে। আমার বহুবার গাড়ি ভেঙেছে। দুটো ডিম খেয়েছে বলে কি পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি রসাতলে চলে গিয়েছে? মানুষের অধিকার আছে নিজের রাগ প্রকাশ করার। ডায়মন্ড হারবারে আমার দু’জন জেলা প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে গিয়েছল।একজনকে মাসের পর মাস অন্য জেলায় লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল। আমরা সহ্য করে এসেছি। আমাদের উপর হওয়া অত্যাচার নিয়ে ওরা কোনোদিন মুখ খোলেনি। তখন এই মানবতা কোথায় ছিল?এইসব মানবতার কথা সৌজন্যের কথা আমাকে বলবেন না।” অর্থাৎ দিলীপ স্পষ্ট করে দিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার ঘটনায় কোনও অন্যায় দেখছেন না।
মমতার গাড়িতে হামলার প্রসঙ্গে শমীকের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সংবাদমাধ্যমকে দিলীপ বলেন, “শমীক ভট্টাচার্য পার্টির নীতির কথা বলেছেন। উনি ঠিক। আবার আমিও ঠিক। যে বুঝতে পারবে না তাঁকে বোঝানোর দায়িত্ব আমার। তাঁকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন।” আরও বলেন, “১০ বছর কাঁটার ওপর হেঁটেছে দিলীপ ঘোষ। সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়েছে। আমাকে যেন কেউ মানবতার কথা বলতে না আসে। আমি ধন্যবাদ দেব। তাঁরা কেউ ইট,লাঠি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ায়নি। আমি বেরোলে রোজ দাঁড়িয়ে থাকত। কতজন বুদ্ধিজীবী তখন এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে?”
আরও একটি বিস্ফোরক দাবি করেন দিলীপ ঘোষ। তৃণমূলের তরফে বারবার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে ডিম বিজেপির দিকে বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, “ভবিষ্যত কে দেখেছে? ওদের ভবিষ্যত কি? ওরা কোন গর্তে পড়বে কেউ জানে? মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। বাংলার মানুষের মধ্যে এখনও মানবিকতা যায়নি। তাই ইটের বদলে ডিম মারছে। মারা উচিৎ ইট। আমি সমর্থন করব ইট মারলে। মানুষ অনেক ভদ্র বলে ইট মারেনি। এটা ওদের পাওনা ছিল।”
প্রসঙ্গত, রবিবার হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়ি যাওয়ার সময় বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয় কাদা ও জুতো। ঘটনায় সরব হয় কালীঘাট তৃণমূল। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন কুণাল, কল্যাণরা। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে শমীক জানান, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু কোনও মহিলা নেত্রীর গাড়ির উপর হামলাকে সমর্থন করে না বিজেপি। আর এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।