
কলকাতা: এসআইআর (SIR) নিয়ে বিতর্কের আবহেই পুরভোটের আগে কলকাতার ভোটার তালিকা নিয়ে বড় তথ্য় সামনে এসেছে। কলকাতার ৭ লক্ষ ৬৯ হাজার জীবিত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে সূত্রের খবর। আর এই নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি কেউ ‘সূক্ষভাবে করেছে’ বলে মন্তব্য করলেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জহর সরকার (Jawahar Sarkar)।
‘সবর ইনস্টিটিউট’-এর একটি রিপোর্ট বলছে, কলকাতার ১৭টি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রায় সাড়ে ১০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৮২ হাজার। অর্থাৎ বাদ পড়েছে ৭ লক্ষ ৬৯ হাজার জীবিত ভোটারের নাম। এর মধ্যে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে বাদ ১ লক্ষ ২৬ হাজার নাম।
ওই রিপোর্ট বলছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছে মেটিয়াবুরুজে। তারপর কলকাতা বন্দর, তারপর চৌরঙ্গী। সবথেকে কম নাম বাদ পড়েছে মানিকতলায়। সমীক্ষা বলছে, প্রতি ৪ জন ভোটারে ১ জনের নাম বাদ গিয়েছে। আর জীবিত ভোটারের হিসেবে ৫ জনের মধ্যে ১ জনের নাম বাদ গিয়েছে।
কলকাতার ভোটারা ডিলিট হওয়ার প্রসঙ্গে প্রাক্তন সিইও জহর সরকার বলেন, “ওরা (নির্বাচন কমিশন) কোনও তথ্য দিতে পারছে না। যাঁদের মৃত বলা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে সন্দেহ থাকলেও মেনে নিচ্ছি। কলকাতা পুরসভা এলাকারা ৪২ লক্ষ ভোটার থেকে ৭ লক্ষ ৬৯ হাজার লোকের নাম কেটে দিয়েছে। বিধানসভা ধরে ধরে নাম কাটা হয়েছে। প্রায় ৫ জনের মধ্যে একজনের নাম বাদ গিয়েছে। তার কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারছে না কমিশন।”
তিনি আরও বলেন, “এই কাটার অপারেশন যারা করেছে, তারা বেশ সূক্ষভাবে করেছে। বুঝতে দেয়নি কাউকে। তথ্য ছাড়ছে না বাজারে। পরে কেউ দেখছে নাম নেই, ভাতা মিলছে না। পরিকল্পনা করেই করা হয়েছে।” পুরসভার ওয়ার্ড বিন্যাসও রাজনৈতিক উদ্দেশে হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
১৬ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তুলেছেন জহর সরকার। তিনি জানান, ফর্ম ৭ অর্থাৎ যে ফর্ম দিয়ে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা হয়, সেটি একজন ভোটারই করতে পারে। সেই ফর্ম কীভাবে কমিশন ব্যবহার করল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন জহর সরকার। কে ১৬ লক্ষ নাম বাদ দিল সেটাই রহস্যই রয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে দুই নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী ও সুখবীর সিং সান্ধুও এই বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন, আবার হলফনামায় কমিশনও ববিষয়টি নিয়ে দায় নেয়নি। তাঁর মতে, রিটার্নিং অফিসার যখন করেননি, তখন ধরে নেওয়া যায় কাজটা সিইও করেছেন।