
চন্দননগর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যতদিন প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন, ততদিন তাঁর ঠিক আশপাশে যাঁদের দেখা যেত তাঁদের মধ্যে অন্যতম চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। গানের জগত থেকে এসে তাঁক রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে। তারপর টানা দু’বার চন্দননগরের বিধায়ক ছিলেন। হয়েছেন মন্ত্রীও। বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে মমতা-ইন্দ্রনীলকে একসঙ্গে গান গাইতে বহুবার শুনেছেন বাংলার মানুষ। তবে, এবারের ভোটে জিততে পারেননি তিনি।রাজ্যের অন্য জায়গার মতোই চন্দননগরও দখল করেছে বিজেপি। এবার কী করবেন ইন্দ্রনীল? আজ টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করলেন সেই কথাই।
বাংলার রাজনীতিতে সরকার বদল হতেই দলের নেতাদের অনেকেই বেসুরো গাইছেন। নিচুতলার অনেক কর্মী প্রশ্ন করেছেন, কেন আগের বড়-বড় মন্ত্রী নেতাদের রাস্তায় দেখা যাচ্ছে না? তাঁরা কোথায় গেলেন? এই রকমই চর্চার কেন্দ্রেও রয়েছেন ইন্দ্রনীল নিজেও। তবে তিনি জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। তবে, আপাতত, গান নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন তিনি।
এখন কী করবেন ইন্দ্রনীল?
ইন্দ্রনীল বলেন, “আমি রাজনীতিতে রয়েছি, কিন্তু আমি রাজনীতিবিদ নই। । দুটোতে তফাৎ আছে। আমায় বাংলার মানুষ গায়ক হিসাবে চেনে, শিল্পী হিসাবে চেনে। আমি যখন ভোটে দাঁড়াই তখন আমায় মানুষ বিধায়ক করেছেন। এই সম্মান আমায় দল দিয়েছে। আমি উপভোগ করেছি।” তাঁর আরও সংযোজন, “আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। হয়ত কিছু পেরেছি, হয়ত অনেকটা পারিনি। কাউকে দোষারোপ করব না। আমি শিল্পী হিসাবে গান বাজনা চালাব। শিল্পী হিসাবে লেখক-সাহিত্যিক-কবি-নাট্যকার-গায়কের দায়িত্ব আছে। আমি তাই করব।”
ভোটে কি আর লড়াই করবেন না ইন্দ্রনীল?
টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বললেন, “আমি ভোট রাজনীতিতে আর থাকবো না। ভোট এ দাঁড়াব না। বিশেষ করে চন্দননগরে এই ঘটনার পর…আমার কাছে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে ভোট রাজনীতি সম্বন্ধে। শিল্পীরা অনেক সেনসিটিভ। অল্পেতে তাঁরা কেঁদে ফেলেন অল্পে তাঁরা হাসেন। এটা আজ পর্যন্ত অন্তত তাই সিদ্ধান্ত। কিন্তু কাল কি হবে জানি না (হেসে )
তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ থাকবে?
ইন্দ্রনীল বলেন, “আমার সকলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে। ছোটবেলার বন্ধ যাঁরা রাজনৈতিক ভাবে অন্য মতবাদে বিশ্বাসী তাঁদের সঙ্গেও যোগাযোগ আছে। এটা তো আত্মিক ব্যাপার।”