Paikpara Flat: প্রোমোটারের এক চালেই ঠাঁইনাড়া! জীবনের সঞ্চয় জমিয়ে পাইকপাড়ায় ফ্ল্যাট কিনেও অকূলপাথারে ৩০টি পরিবার

Flats Built on Disputed Land: এই ফ্ল্যাটে মূলত ৩০টি পরিবার থাকে। ২৩টি পরিবার তাঁদের জীবনের সর্বস্ব পুঁজি দিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। পাঁচ জন শরিক রয়েছে। যারা শরিকি, তাঁরা প্রোমোটারের থেকে কিছুটা বেশি স্কোয়ার ফিটের ফ্ল্যাট নিয়েছে। ১৯ লক্ষ টাকা দিয়ে ৭২০ স্কোয়ার ফুটে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন।

Paikpara Flat: প্রোমোটারের এক চালেই ঠাঁইনাড়া! জীবনের সঞ্চয় জমিয়ে পাইকপাড়ায় ফ্ল্যাট কিনেও অকূলপাথারে ৩০টি পরিবার
পাইকপাড়ায় বিতর্কিত জমিতে ফ্ল্যাটImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Aug 04, 2026 | 5:42 PM

কলকাতা: আদালতে মামলা বিচারাধীন। কিন্তু সেই মামলা মেটার আগেই জমিতে ফ্ল্যাট বানিয়ে ফেলেছেন প্রোমোটার। সেই ফ্ল্যাট বিক্রিও করে ফেলেছেন। এরপর আর কোনও হদিশ নেই প্রোমোটারের। ক্রেতাদের অন্ধকারে রেখেই ফ্ল্যাট বিক্রির অভিযোগ প্রোমোটারের বিরুদ্ধে। ফ্ল্যাট ছাড়ার নোটিস ধরিয়েছে পৌরসভা। নোটিস হাতে পেতেই মাথায় হাত বাসিন্দাদের।

মঙ্গলবার সকালে পৌরসভার তরফে ফ্ল্যাটে নোটিস টাঙানো হয়। আসে পুলিশ বাহিনীও। ফ্ল্যাটের নীচে যে দোকান রয়েছে, সেগুলিও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে পৌরসভার তরফে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই ফ্ল্যাটের নীচের একাধিক দোকান সিল করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এদিন যেতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা। পুলিশের পায়ে পড়ে তাঁরা জানাতে থাকেন, তাঁরা বিন্দুমাত্র কোনও সময় দেওয়া হয়নি। তাঁরা কোথায় যাবেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলছেন, যেখানে ফ্ল্যাট হয়েছে, সেখানে আগে একটি টালি বাড়ি ছিল। টালির বাড়িটা দেড়শো বছরের ছিল। তিন পুরুষ সেখানে থাকত। এই বিল্ডিং তৈরি হয়েছে ৩ বছর। পুলিশ জানাচ্ছে, ১৯৮৬ সাল থেকে এই জমি নিয়ে মামলা চলছে।  ২০২২ সালে ফ্ল্যাট তৈরি হয়ে যায়।  ফ্ল্যাট কিনে ঢুকে যাওয়ার পর প্রোমোটার জানান, এই জমি নিয়ে মামলা চলছে। কিন্তু ততদিনে অনেক পরিবারই ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়েছে। এই মামলা চলাকালীন আদালত কোনও স্টে অর্ডারও দেয়নি। চলতি বছরের জুন মাসে মামলায় জিতে যান মালিকপক্ষ। তাতেই পুলিশ ফ্ল্যাট খালি করার নোটিস নিয়ে এদিন আসে।

এই ফ্ল্যাটে মূলত ৩০টি পরিবার থাকে। ২৩টি পরিবার তাঁদের জীবনের সর্বস্ব পুঁজি দিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। পাঁচ জন শরিক রয়েছে। যারা শরিকি, তাঁরা প্রোমোটারের থেকে কিছুটা বেশি স্কোয়ার ফিটের ফ্ল্যাট নিয়েছে। ১৯ লক্ষ টাকা দিয়ে ৭২০ স্কোয়ার ফুটে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। তিনি বললেন, “আমাকে দলিল দেননি প্রোমোটার। ৯৯৯ বছরের ডিড দিয়েছিলেন। ” এলাকায় ৮-৯ মাস আগে শেষ প্রোমোটারের দেখা পাওয়া গিয়েছিল। তারপর থেকে তিনি পালিয়ে পালিয়েই বেড়াচ্ছেন।

কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা, দোকান মালিকরা। উদ্বেগ ধরে রাখতে পারছেন না। প্রশ্ন হচ্ছে, মামলা চলছে, তা জানা সত্ত্বেও কীভাবে সেই জমিতে ফ্ল্যাট তৈরি করার অনুমতি দিল পৌরসভা, বোরো অফিসাররা কী করছিলেন। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে আর খোঁজ মিলছে না প্রোমোটারের। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, “তৃণমূলের আমলে মানুষ নানাভাবে প্রতারিত হয়েছে।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us