
কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার এই নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে এদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্যপাল তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের দ্বারস্থ হল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। এবিভিপির পক্ষ থেকে রাজ্যপালের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানানো হয়।
এবিভিপির পক্ষ থেকে মূলত পিএইচডি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের CBI তদন্ত, বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে উত্থাপিত দেশবিরোধী গতিবিধির অভিযোগে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার ঘটনায় অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, ফলক ভাঙার ঘটনায় আচার্য অথবা উচ্চশিক্ষা দফতরের উদ্যোগে উচ্চপর্যায়ের ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে। এছাড়াও JUTA-র সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে এবিভিপি।
প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন এবিভিপির কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী, প্রদেশ সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট সম্পাদক সঞ্জীবন দীপ বর্মন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক শুভজিৎ সাহা এবং অনিন্দিতা দাস।
রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া নিয়ে এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য বলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোনও অভিযোগ বা অনিয়মকে রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে প্রতিটি অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “উত্থাপিত অভিযোগগুলির দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে।”