
কলকাতা: বসন্তের রঙে যখন রঙিন গোটা বাংলা, তখন যেন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হয়ে রয়ে গিয়েছে ধর্মতলার মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তির পাদদেশ। দোলযাত্রার উৎসবে বসন্তের আলোর ছিটেফোঁটায় পৌঁছায়নি এখানে। বসন্তের আনন্দে যখন মাতোয়ারা গোটা বাংলা, তখন এক বিবর্ণ চিত্র মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তির পাদদেশে। নিয়োগের দাবিতে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, ২০১৪ সালের প্রাইমারি টেট পাশ নন ইনক্লুডেড চাকরিপ্রার্থীরা। চাকরির দাবিতে দোলের দিনেও আন্দোলনে অনঢ় তাঁরা। একদিকে যখন গোটা বাংলা উৎসবের আনন্দে রঙিন, তখন নিকষ কালো রূপ নিয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনমঞ্চ।
বসন্তের আনন্দে রঙিন হয়েছেন নেতারাও, কিন্তু চাকরিপ্রার্থীরা আজও রঙহীন, বিবর্ণ। কালো কাপড় গায়ে চাকরির দাবিতে আজও ঠায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। গলায় শুধু একটাই কথা, ‘নিয়োগ চাই, নিয়োগ চাই।’ আর প্রতিশ্রুতি নয়, এবার তাঁরা চাইছেন প্রতিকার হোক। ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেট উত্তীর্ণ নট ইনক্লুডেড চাকরিপ্রার্থীদের এই আন্দোলনমঞ্চের একেবারের শুরুর দিন থেকে রয়েছেন অরুণিমা পাল। একরাশ হতাশা মিশ্রিত গলায় তিনি বলছেন, ‘আমাদের জীবনে এখন অকাল অমানিশা। আজ পূর্ণিমা, কিন্তু আমাদের জীবনে চন্দ্রগ্রহণ। সমস্ত রঙ কেড়ে নিয়েছে বর্তমান সিস্টেমের সংগঠিত অপরাধীরা।’
অরুণিমা পালের বক্তব্য, ‘আমাদের নিয়োগে কোনও স্থগিতাদেশ নেই। আজ কার্যত প্রমাণিত যে দুর্নীতি হয়েছে এবং চাকরি বিক্রি হয়েছে। আমরা জানি না কেন, কোন অজানা কারণে আমাদের নিয়োগগুলি এখনও দেওয়া হচ্ছে না।’ কথাগুলি বলতে বলতে আক্ষেপ ঝরে পড়ছিল অরুণিমা পালের। এই লড়াই যে ক্রমশ এক অসম লড়াই হয়ে উঠছে, সে কথাও বলছেন তিনি। এক বুক হতাশা নিয়ে বললেন, ‘এই আইনি জটিলতায় শেষে তো মরছি আমরা। আমাদের রঙটা থাকবে কীভাবে?’