
কেষ্টপুর: নতুন গাড়ি চালানো শিখছিলেন। মেয়েকে স্কুলে দিয়ে এসে সেই গাড়ি গ্যারেজ থেকে বের করতে গিয়েই দুর্ঘটনা। গাড়ি-সহ পুকুরে ডুবে মৃত্যু হল মহিলার। ঘটনাটি কলকাতার কেষ্টপুরের। মৃতের নাম সুমিত্রা দাস।
জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল পৌনে নটা নাগাদ কেষ্টপুর প্রফুল্ল কানন পশ্চিমের বাসিন্দা সুমিত্রা দাস তাঁর মেয়েকে স্কুটিতে করে স্কুলে দিয়ে আসেন। এরপর স্কুটিটি রেখে গাড়িটি গ্যারেজ থেকে বার করেন। গাড়িটি বের করায় সময় আচমকা সামনের পুকুরের মাঝখানে চলে যায়। তবে বাঁচার চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি। জলে তলিয়ে যান ওই গৃহবধূ। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জলে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁকে উদ্ধার করতে পারেননি।
দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় স্থানীয় দমকল এবং পুলিশ গাড়িটিকে পুকুরের মাঝ থেকে উদ্ধার করে। গাড়িটিকে জল থেকে বাইরে আনার পর দেখা যায়, মহিলার মুখ পিছনের গেটের দিকে রয়েছে। পা ছিল স্টিয়ারিংয়ে। পুলিশের অনুমান, মহিলা পিছনের গেট দিয়ে বেরনোর চেষ্টা করেছিলেন। পারেননি। ওই পুকুরে জলের গভীরতা ১০ থেকে ১২ ফুট বলে জানা গিয়েছে। ফলে জলের গভীর থেকে মহিলাকে উদ্ধার করা যায়নি।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার স্বামী কৃষ্ণেন্দু দাস নতুন গাড়ি কিনেছিলেন। সেই গাড়ি চালানো শিখছিলেন তাঁর স্ত্রী। আগামী ২২ অগস্ট লাইসেন্স পাওয়ার জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেই তিনি গাড়িটি বার করেছিলেন। সেই সময় শিক্ষানবীশ হওয়ার কারণে ব্রেকের বদলে অ্যাক্সিলারেটরে পা পড়ে যাওয়ায় দ্রুত গাড়িটি পুকুরের মাঝখানে চলে যায়।
স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “উনি নতুন গাড়ি চালানো শিখছিলেন। এখানে গ্যারেজ রয়েছে। স্কুটি রেখে গাড়িটা রাস্তার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেইসময় ভুল করে হয়তো গাড়ির অ্যাক্সিলারেটরে পা দিয়ে দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি পুকুরে পড়ে মাঝখানে চলে যায়।” আকস্মিক দুর্ঘটনায় মৃতার পরিজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা কোনও কথা বলার অবস্থায় নেই। পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।