
কলকাতা: ইএম বাইপাসের ধারে সিমলা বিরিয়ানি থেকে শুরু করে নাগেরবাজারের আরসালান- কলকাতার ৪০টি রেস্তোরাঁ-হোটেলের লাইসেন্সে কাঁচি! তার মধ্যে রয়েছে বলরাম মল্লিকের মিষ্টির দোকানও। কেবল বলরাম মল্লিক নয়, একাধিক মিষ্টির দোকানেরও লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছে কলকাতা পুরনিগম। কোথাও পচা খাবার, মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা, কোথাও আবার খাবারে বিষাক্ত রং। কিন্তু মিষ্টির দোকানে সমস্যা কী? জানা যাচ্ছে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে মিষ্টি তৈরি হত। মিষ্টিতে ব্যবহৃত দুধেও ছিল ভেজাল।
কলকাতার টলিগঞ্জের বি এল সাহা রোডের বলরাম মল্লিকের মিষ্টির দোকানে কোথায় কোথায় সমস্যা?
কলকাতা পুরসভার তরফে যে সাসপেনশনের তালিকা দেওয়া হয়েছে, তাতে যে বিষয়গুলো সামনে এসেছে…
১. খাবার প্রস্তুতকারী ও পরিবেশনকারীদের বার্ষিক শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রতিষেধক টিকাদানের নথি পাওয়া যায়নি।
২. রেফ্রিজারেটরে রাখা কোনও প্রস্তুত বা অর্ধ-প্রস্তুত খাবারে প্রস্তুতের তারিখের ট্যাগ (Date tag) পাওয়া যায়নি।
৩. ব্যবহৃত ভোজ্যতেল ফেলার বা নষ্ট করার বিষয়ে কোনও কাগজপত্র বা নথি পাওয়া যায়নি।
৪. ঢাকনাবিহীন আবর্জনার পাত্র (ডাস্টবিন) পাওয়া গেছে।
৫. তাপমাত্রা সঠিকভাবে দেখা যায় এমন কোনও ফ্রিজার পাওয়া যায়নি।
৬. খাবার প্রস্তুতকারী বা পরিবেশনকারীরা কোনো ধরনের টুপি বা অ্যাপ্রন পরে ছিলেন না।
৭. বেশিরভাগ খাবারই খোলা বা ঢাকনাবিহীন অবস্থায় রেক বা ফ্রিজারে রাখা ছিল।
৮. রান্নাঘরের বাইরে আলুর সবজি তৈরি হচ্ছিল এবং নিচু জলজ/জলাভূমির সংলগ্ন জায়গায় বস্তায় আলু রাখা ছিল।
কেবল বি এল সাহা রোডের বলরাম মল্লিকের মিষ্টির দোকান নয়, একাধিক মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। পুজো আসছে তাই মিষ্টির দোকান গুলোর পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দরকার। কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, ৪০ টি সংস্থাকে সাসপেনশন করা হয়েছে। সংস্থাগুলো যখন তাদের সব নিয়ম মেনে আবেদন করবে, তখন সেটা দেখা হবে।