
কলকাতা: যে মিলেনিয়াম পার্কে বসে হাওয়া খান সেই পার্কের চেয়ারগুলির যদি বছর দশেক পরে টাইটানিকের মতো গঙ্গার তলায় সলিল সমাধি হয়ে যায়? বা যে ধর্মতলায় দৌড়ে গিয়ে বাস ধরছেন সেখানে ভাসছে লঞ্চ! নেপালের মতো বিপর্যয় কি নেমে আসতে পারে কলকাতাতেও? ভেসে যেতে পারে কলকাতা? উদ্বেগ বাড়াচ্ছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিপোর্ট। সময় হাতে খুবই কম! সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে যে রিপোর্ট সামনে এসেছে, তা রীতিমতো ভয় ধরাচ্ছে। ঢাকা, মুম্বইয়ের সঙ্গে কলকাতা নিয়েও বাড়ছে আশঙ্কা। ভবিষ্যতে বাড়ি, জীবিকা, সর্বোপরি নিরাপত্তা হারানোর ঝুঁকি। প্রায় দেড় কোটি মানুষের সর্বনাশের পূর্বাভাস পাওয়া গেল এবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিপোর্ট।
তবে শুধুমাত্র জলস্তর বৃদ্ধি না, গঙ্গা-বহ্মপুত্রের ব-দ্বীপের নীচু এলাকা বসে যাওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিপোর্ট। ডায়মন্ড হারবারে তুলনামূলক জলস্তর বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
পরিবেশবিদ সৌমেন্দ্রনাথ ঘোষের মতে, আগামী ২৫ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০৫০ সালের মধ্যে কলকাতা জলের তলায় চলে যাবে। অতিরিক্ত পলির কারণে গঙ্গায় জল ধারণের ক্ষমতা কমে গিয়েছে। ব্যারেজগুলোও অকেজো হয়ে পড়ছে। ৫০-৭০ বছর হয়ে গিয়েছে। কার্যক্ষমতা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। ভারী বৃষ্টি হলেই জল ছেড়ে দিচ্ছে ব্যারেজ। ফলে ভারী বৃষ্টি হলে ব্যারেজ যদি খুলে দেওয়া হয়, আর সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে প্রবল জলোচ্ছ্বাস যদি একই সঙ্গে হয়, তাহলে সব মিলিয়ে কলকাতা পুরো ভেসে যাবে।
ডায়মন্ডহারবারের জলস্তর অনেক বেড়ে যাবে। খিদিরপুরও তাই।
তাঁর মতে, পরিস্থিতি এমন, যদি এখন আমরা সচেতনও হই, তাহলেও ২৫ বছরটাকে মেরেকেটে ২-৪ বছর আর টেনে নিয়ে যাওয়া যাবে। কিন্তু সব মিলিয়ে যা পরিস্থিতি হয়ে আছে, বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে কলকাতা।