
কলকাতা: মেটোপলিটন ভবন। ঋতব্রত তৃণমূলের (Ritabrata TMC) অধিকৃত অফিসে তখন স্বাধীনতা দিবসের (Independence Day) উদযাপন চলছে। পতাকা উত্তোলন করছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya), অরূপ রায় (Arup Roy), কোহিনূর মজুমদাররা (Kohinoor Mazumder)। ঠিক সেইসময় দেখা গেল এক অন্য ছবি। ঋত শিবিরের অনুষ্ঠানে হাজির কালীঘাট তৃণমূলের কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)! যে কুণাল বারবার ঋতব্রত শিবিরকে কড়া আক্রমণ করেছেন, সেই কুণালই চন্দ্রিমা, অরূপ রায়দের সঙ্গে দাঁড়িয়ে? তাহলে কি ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে দূরত্ব ঘুচছে কুণালের? বেলেঘাটা বিধায়কের আচমকা এই পদক্ষেপে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে।
মেট্রোপলিটন ভবনে পতাকা উত্তোলনের পর বীর শহিদদের শ্রদ্ধা জানান কুণাল ঘোষ। এরপর বক্তৃতাও দেন তিনি। স্বাধীনতা দিবসেক অনুষ্ঠান থেকে নেতাজিকে অপমানের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন। অনন্ত মহারাজের গ্রেফতারি দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে সাংসদ পদ খারিজ ও দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। কিন্তু, ঋত শিবিরের অনুষ্ঠানে তাঁর এই হঠাৎ পদার্পণ কেন?
নিজেই সব জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। তিনি টিভি৯ বাংলাকে জানান, তপসিয়ায় যে তৃণমূল ভবন রয়েছে, যা এখন নির্মীয়মাণ, সেখানে দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়দের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিতে যোগদান করেন। তারপর তিনি নিজের বিধানসভা এলাকা বেলেঘাটার উপর দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন দেখেন যে মেট্রোপলিটন ভবনে পতাকা উত্তোলন হচ্ছে। কুণালের কথায়, তিনি নিজেই একজন স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে সেই উদযাপনে অংশগ্রহণ করেন।
কুণাল বলেন, “আমি গাড়ি থেকে আচমকাই নেমে সেখানে যাই। কারণ আমি তো ওখানকার বিধায়ক। আর আমার দলের নাম করে পতাকা তোলা হচ্ছে। তাই আমি যাই। আমাকে দেখে তাঁরা বিস্মিত হন বটে। শ্রদ্ধা জানাই, শহিদবেদিতে ফুল দিই। আমি চলে যাচ্ছিলাম, তখন আমাকে বক্তৃতা দিতে বলেন ওঁরা। বক্তৃতায় আমি বলেছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই তৃণমূল কংগ্রেস লড়ছে ও লড়বে। নেতাজিকে যেভাবে অপমান করেছে বিজেপি সাংসদ, তাঁকে গ্রেফতার করা উচিত।” এই ব্যাখ্যাই দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক। তবে, ঋতব্রত শিবিরের অনুষ্ঠানে কুণাল ঘোষের উপস্থিতি ভবিষ্যতে কোনও আলাদা মাত্রা যোগ করে কি না, তা সময়ই বলবে।