
কলকাতা: রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। প্রাক্তন বিধায়ক। রাজ্য তৃণমূলের মহিলা সংগঠনের অন্যতম মুখ। কিন্তু, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে তৃণমূল যখন আসল-নকলের দ্বন্দ্বে জর্জরিত, যখন একে একে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাত ছেড়েছেন তাঁর আস্থাভাজনরা, সেইসময় কার্যত ডুমুরের ফুল হয়ে ওঠেন তিনি। কথা হচ্ছে শশী পাঁজাকে (Sashi Panja) নিয়ে। ভোটে পরাজিত হওয়ার পর থেকে কার্যত বেপাত্তা তিনি। তবে, সম্প্রতি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চেম্বারে দেখা গিয়েছে শশীকে। যা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে রাজ্য-রাজনীতিতে। এতদিন কোথায় ছিলেন শশী পাঁজা? এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন কালীঘাট তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।
কুণাল ঘোষের দাবি, শশী পাঁজা আর ভোটের পর যোগাযোগ রাখেন না। বিধায়ক বলেন, “আমি এটা নিয়ে বলতে পারব না। কারণ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রাক্তন দলীয় মন্ত্রী, ঘন ঘন সাংবাদিক বৈঠকে আমার অন্যতম সঙ্গী শশী পাঁজাকে তারপর থেকে কর্মীরাও দেখতে পাননি, আমরাও দেখতে পাইনি। ভোটের আগে শশী পাঁজার বাড়িতে যখন বিজেপি হামলা করেছিল, তারপর যখন সেই কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তখন কোর্টে, থানায় একবারও শশী পাঁজাকে দেখা যায়নি।”
রাজ্যের বাইরে ছিলেন শশী। কুণাল প্রথমে যোগাযোগ করলেও পরে আর শশী পাঁজা যোগাযোগ করেননি। তিনি বলেন, “আমি নিজেও ফোন করেছি, যোগাযোগ করেছি। দেশের বাইরে ছিলেন। বলেছিলেন ফিরে এসে যোগাযোগ করবেন। ঘটনাচক্রে যোগাযোগ হয়নি। এখন উনি কার কাছে যাবেন, কার সঙ্গে তাঁর যোগযোগ ছিল, কোনটা চিকিৎসক হিসেবে, কোনটা তৃণমূল হিসেবে, কোনটা ভালো তৃণমূল হিসেবে, কোনটা খারাপ তৃণমূল হিসেবে, বুঝব কীভাবে?”
উল্লেখ্য, হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটে কাকলির একটি ক্লিনিক রয়েছে। সম্প্রতি, সেখানেই দেখা গিয়েছে শশী পাঁজাকে। তিনি নিজেও একজন চিকিৎসক। ওই ক্লিনিকে আগেও একাধিকবার গিয়েছেন শশী। তবে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আবহে কাকলির ক্লিনিকে শশীর উপস্থিতি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।