
মহেশতলা: দৃশ্যটা দেখে আঁতকে উঠেছিলেন প্রতিবেশীরা। থেঁতলানো মুখ। চোখ সামনে বেরিয়ে এসেছে। মহেশতলার বাটানগরের বহুতল আবাসন থেকে উদ্ধার হয়েছে মৃত ওই যুবকের দেহ। মৃতের নাম অনিমেষ রাজ। প্রতিবেশীদের বক্তব্য, খুন করা হয়েছে যুবককে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সোমবার মহেশতলার বাটানগরের হাইল্যান্ড গ্রিন আবাসনের ৩৫ নম্বর টাওয়ারের সাততলার একটি ফ্ল্যাট থেকে অনিমেষের দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃত যুবক কেন্দ্রীয় সরকারের একজন কর্মী ছিলেন। ওই ফ্ল্যাটে তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকতেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে অনিমেষের মা নিজের ছেলেকে ফ্ল্যাটের বারান্দায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর তিনি প্রতিবেশীদের খবর দিলে তাঁরা মহেশতলা থানায় যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনিমেষ রাজকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বেহালা বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, গত ৩ জুলাই থেকে আবাসনের ওই ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। ঘটনার সঙ্গে এর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেশীদের দাবি, যেভাবে মুখের অবস্থা রক্তাক্ত ছিল, তাতে স্পষ্ট যে কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। বিজেপির ডায়মন্ড হারবার জেলার প্রাক্তন সভাপতি অভিজিৎ সর্দারের বক্তব্য, এটি পরিকল্পিতভাবে খুন।
ইতিমধ্যেই দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে এটি খুন, নাকি অন্য কোনও কারণে মৃত্যু, তা স্পষ্ট হবে বলে অনুমান। ঘটনার তদন্তে নেমেছে মহেশতলা থানার পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে মৃতের মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ মৃত যুবকের দুটি ফোন খতিয়ে দেখছে এবং আবাসনের অন্যান্য সিসিটিভি ক্যামেরা খতিয়ে দেখছে।