
কলকাতা: আজ ছিল মমতার ‘বলার দিন’ আর বাকিদের ‘শোনার দিন’। বৈঠকের মাঝে খোদ মুখ্যমন্ত্রীই বুঝিয়ে দিয়েছেন এ কথা। নবান্নের সভাঘরে বলে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে এদিন বলেই চলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জঞ্জালে ভরা রাস্তা, বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা, বেআইনি জমি দখল, কাঁচা রাস্তার মতো যে সব অভিযোগ সাধারণ মানুষের মুখে প্রতিনিয়ত শোনা যায়, সেগুলোই শোনা গেল মমতার মুখে। বললেন, ‘আমি মানুষের কথা বললাম আজ।’ শুধু তীব্র ভর্ৎসনাই নয়, ‘ভাল-খারাপে’র রিপোর্ট কার্ডও পড়ে শোনালেন মমতা।
‘বেস্ট অ্যান্ড ওয়ার্স্ট পারফরম্যান্স’- এই বলেই একে একে বলে গেলেন পুরসভাগুলির নাম।
পানীয় জলের ক্ষেত্রে ভাল কাজের তালিকায় উলুবেড়িয়া, হালিশহর, কলকাতা, বৈদ্যবাটি, বাঁকুড়া পুরসভা। আর খারাপ কাজের তালিকায় আলিপুরদুয়ার, বালি, বরানহগর, শান্তিপুর ও শিলিগুড়ি।
হাউসিং অর্থাৎ নির্মাণের ক্ষেত্রে মমতার রিপোর্ট বলছে উলুবেড়িয়া, জঙ্গিপুর, হাবড়া কৃষ্ণনগর, মধ্যমগ্রামে ভাল কাজ হয়েছে আর সবথেকে খারাপ কাজ হয়েছে বিধাননগগর, আসানসোল, রায়গঞ্জ ও কাঁথিতে। এই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘সব নিজেদের সম্পত্তি করে রেখে দিয়েছে, ভেঙে দেব আমি।’
পরিচ্ছন্নতার মাপকাঠিতে কলকাতা, বসিরহাট, বৈদ্য়বাটি, উত্তরপাড়া, নবদ্বীপ, উত্তর দমদম পাশ করেছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। পরিচ্ছন্নতায় ফেল কাঁথি, ডালখোলা, পানিহাটি, কুপার্স ক্যাম্প, সিউড়ি।
এই রিপোর্ট কার্ড পেশ করে নগরোন্নয়ন দফতরকেও একহাত নেন মমতা। রাজ্য সরকার বিপুল টাকা দেওয়া সত্ত্বেও কেন কাজ হচ্ছে না, সেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় ফিরহাদ হাকিমের দফতরকে।