
কলকাতা: দল একটাই। কিন্তু এখন তা আসল-নকলের দ্বন্দ্বে ভেঙে চুরমার। একটা কালীঘাট তৃণমূল। আরেকটা ঋতব্রতদের তৃণমূল। সম্প্রতি, ২১ জুলাই নিয়েও দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে দুই তৃণমূলের মধ্যে। কালীঘাটের তৃণমূলের মতো ভিক্টোরিয়া হাউজ়েই শহিদ দিবস পালন করতে চায় ঋতব্রতপন্থীরা। যখন শহিদ দিবসের এই সমাবেশ নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক সেইসময় ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। ঋতব্রত তৃণমূলের বিরুদ্ধে থানায় গেল কালীঘাট শিবির।
কী অভিযোগ কালীঘাট তৃণমূলের?
ঋতব্রত, সন্দীপন, জাভেদ, অরূপদের বিরুদ্ধে দু’টি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে কালীঘাট তৃণমূল। বিনা অনুমতিতে দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগ ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে। প্রতারণা, চক্রান্ত, ভিত্তিহীণ তথ্য পেশেরও অভিযোগ তুলে পুলিশের কাছে দ্বারস্থ কালীঘাট তৃণমূল। ঋতব্রত শিবিরের নেতাদের পাশাপাশি নিউটাউনের সভায় উপস্থিত থাকা কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হয়েছে। উল্লেখ্য দিন কয়েক আগেই, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নিউটাউনের গোপন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুরনিগমের একগুচ্ছ কাউন্সিলর।
ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম প্রতীক ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীণ দাবি করে যাঁরা কিছু কর্মসূচি করছেন, মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদ্ধতিতে দলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে। আমাদের দল, সেই দলের নাম, প্রতীক বা কার্যপ্রণালী যদি বিনা অধিকারে ব্যবহার করে, মানুষকে প্রাভাবিত করার চেষ্টা করে, বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তা যে যে ধারায় পড়ে, সেই ধারা অনুযায়ী অভিযোগ করা হয়েছে।”
এদিকে, ভিক্টোরিয়া হাউজ়ে কোন তৃণমূল ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ করবে, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিক্টোরিয়া হাউজ়ের সামনে একুশের সমাবেশের অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশকে চিঠি দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু অনুমতির আগেই রবিবার সকালে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই ফিতে নিয়ে মাপার কাজ শুরু করে দিয়েছেন কুণালরা। সমালোচকদের মতে, স্নায়ুর চাপ বাড়াতেই মাপজোকের কাজ শুরু করেছে কালীঘাট তৃণমূল।