
কলকাতা: দেশের রাজনীতি তোলপাড় হয়ে গেলেও, দেশের নিরাপত্তা আর সার্বভৌমত্বকেই ভারতে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপোষ করা যাবে না বলে বারবার বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু, ‘ডুবন্ত তৃণমূল’ সামাল দিতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Mamata Banerjee) রাস্তায় বসে যা বলে ফেললেন, তাতে তোলপাড় বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম। ওয়াই চ্যানেলের ধর্নায় বসে মমতা যা বলে দিলেন, তাতে দেশকেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে? জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে।
মঙ্গলবার বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে পূর্বঘোষিত ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চোখে পড়েনি তেমন ভিড়। গুটিকয়েক সাংসদ-বিধায়করা বসেছিলেন পাশে। পরাজয়ের পর এটাই প্রথমবার জনসমক্ষে বক্তব্য রেখেছেন তিনি। সেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে মমতা দাবি করেন, এবার আর কিছু চেপে রাখবেন না তিনি। এক অভিযুক্তের গ্রেফতারির পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কী কথোপকথন হয়েছিল, সে কথাও বলে দেন তিনি। তবে কারও নাম নেননি। দেশের স্বার্থেই যে নামটা নিচ্ছেন না, সেটাও বলে দিয়েছেন।
তবে নাম না বললেও, যা বলেছেন, তা তোলপাড় ফেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে সে নিয়ে লেখালিখিও শুরু হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে, যাই ঘটে থাকুক না কেন, রাজনীতির স্বার্থে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একজন মুখ্যমন্ত্রীর কী কথা হল, তা এভাবে প্রকাশ্য়ে বলা যায়? রাজনীতির স্বার্থে এমন কোনও প্রশ্ন তোলা যায়, যাতে দেশের দিকে আঙুল তুলতে পারে কেউ!
মমতা যে দিন এ কথা বলেছেন, তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল দলটা ভেঙে দু’টুকরো হয়ে গিয়েছে। ৫৮ জন বিধায়ককে নিয়ে নতুন ব্লক তৈরি করে বিরোধী দলনেতার তকমা পেয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই পরিস্থিতিতে মমতাকে পরামর্শদাতা হিসেবে মানতে চাইলেও, মমতার ওই মন্তব্যের দায়িত্ব নিতে রাজি নয় ওই নতুন ব্লক। বিধায়ক সন্দীপন সাহা স্পষ্ট বলেছেন, কেউ এমন কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করে থাকলে, তার দায়িত্ব তিনিই নেবেন, পরিষদীয় দল নেবে না।