
কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে গত কয়েক মাস ধরে কোনও সাংবাদিক বৈঠক করছিলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফেসবুক লাইভে এসে নিজের মন্তব্য ব্যক্ত করছিলেন। তখন পর্যন্ত প্রতীক, নাম ছিল তাঁরই। কিন্তু, আজ যখন দীর্ঘদিন পর সাংবাদিক বৈঠক করলেন, তখন তিনি কার্যত ‘সর্বহারা’। বদলে গিয়েছে চেনা ছবিও। মমতা যখন সাংবাদিক বৈঠকে বসলেন, দেখা গেল তাঁর পিছনে নেই তৃণমূলের প্রতীক। শুধু মমতার মুখ। দলের নাম ও প্রতীক হারানোর পর প্রথমবার আজ যখন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের কথা, প্রতীকের কথা বলতে গিয়ে মাঝে মাঝেই আবেগঘন হয়ে পড়ছিলেন।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রতদের আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। সেই প্রসঙ্গেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যদি সত্যিই কেউ তৃণমূলকে ভালবাসত, তাহলে তৃণমূলের মা-কে কেড়ে নিত না। তৃণমূলকে মাতৃহারা করত না।” এরপরই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তুলে ধরেন সংগ্রামের কথা। বলেন, “জোড়াফুলটা রক্ত দিয়ে গড়া। অনেক সংগ্রাম দিয়ে গড়া। অনেক ভালবাসা দিয়ে গড়া। গদ্দাররা প্রমাণ করে দিল, তাঁরা তৃণমূলটাকে ভালবাসে না। জোড়াফুলটাকে ভালবাসে না।”
মমতা আরও বলেন, “আমাদের কর্মীরা কাল সারারাত কেঁদেছে। আর তাঁরা নাচ করেছে। এটাই হল তফাৎ। মা যদি সন্তানকে হারায়, সন্তান যদি মাকে হারায়, সেই মা-ই বোঝে সন্তানের দুঃখ, আর সন্তানই বোঝে মায়ের দুঃখ। এরা বোঝে না। কারণ এরা এসছে তৃণমূলকে শেষ করার জন্য।”
তৃণমূল ছেড়ে যাঁরা গিয়েছেন, অর্থাৎ নাম না করে তাঁদের চোর-ডাকাত বলেও আক্রমণ করেছেন মমতা। বলেন, “প্রত্যেকটা চোর-ডাকাত। যাঁরা করেছেন নিজের দায়িত্বে করেছেন। আমরা কোনওকিছুতে ঢুকিনি। আমার কাছে যা অভিযোগ আসত, সেই অনুযায়ী অ্যাকশন নিতাম। কিন্তু আমার অজান্তে যদি কেউ কিছু করে থাকে, তাহলে সেটা আমার দায়িত্ব নয়। আমি ভগবান নই। আমি মানুষ।”