‘মমতাই সর্বোচ্চ নেত্রী, ওনাকেই মেনে চলি, চিঠিতে সই করানোর আগে কিছুই বলা হয়নি’, বিস্ফোরক ঋতব্রতদের শিবিরে থাকা MLA-রা

NEW TMC Bloc Crisis: বুধবার বিধানসভায় বিরোধী দলের ঘরে বসে ঋতব্রত বলেন, "আমরা মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমাদের প্রধান পরামর্শদাতা হিসাবে থাকবার অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি থাকুন আমাদের পরামর্শদাতা হিসাবে। তাঁর পরামর্শ পেলে আমরা গঠনমূলকভাবে বিরোধীর ভূমিকা খুব ভালো ভাবে পালন করতে পারব।" আর ধন্দ তো সেখানেই।

মমতাই সর্বোচ্চ নেত্রী, ওনাকেই মেনে চলি, চিঠিতে সই করানোর আগে কিছুই বলা হয়নি, বিস্ফোরক ঋতব্রতদের শিবিরে থাকা MLA-রা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, গুলশান মল্লিক, সঙ্গীতা বসুনিয়া, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (বাঁ দিক থেকে)Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Jun 04, 2026 | 9:16 PM

প্রদীপ্তকান্তি ঘোষ: বুধবার দিনভর নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী থেকেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। সকাল ১০টার পর থেকেই একে একে বিধানসভায় আসতে শুরু করেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপাতত ৫৯ জন ‘বিক্ষুব্ধ’ বিধায়কের সই নিয়ে বিধানসভায় জমা করেন। তৈরি হয় নয়া তৃণমূল ব্লক। বিরোধী দলনেতার মুখ তিনি। ২৪ ঘণ্টা পেরোয়নি। এরই মধ্যেই তৈরি হয়ে যায় নতুন আরও এক সমীকরণ। যাঁরা ঋতব্রতকে অনুসরণ করলেন, যাঁরা তৈরি করলেন ‘নতুন তৃণমূল’ শব্দবন্ধ, তাঁদেরই আবার অনেকে নাকি পরপর ফোন করছেন কালীঘাটে। ফিরতে চাইছেন পুরনো তৃণমূলে। অন্ততপক্ষে ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হোসেন এমনটাই দাবি করেছেন।

কারা কারা ফিরতে চাইছেন? নতুন করে জলঘোলা তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে ঋতব্রতপন্থী পাঁচলার বিধায়ক গুলশান মল্লিক বিস্ফোরক দাবি করে বসলেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা যখন সই করেছিলেন, তখনও পর্যন্ত তাঁরা জানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁদের নেত্রী। এমনটা নাকি তাঁদের জানানোই হয়নি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরামর্শদাতা! সেটা তাঁরা মেনেই নিতে পারছেন না।

সাংবাদিক বৈঠকেই গুলশান মল্লিক বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নেত্রী, এটাই আমাদের বলা হয়েছিল। তখন বলা হয়নি, উনি আমাদের পরামর্শদাতা হবেন। সেটা জেনেই সই করেছি। পরামর্শদাতা তো আলাদা জিনিস। কে পরামর্শ দেবে না দেবে, সেটা অন্য ব্যাপার। দীর্ঘদিন ধরে যাঁর হাত ধরে রাজনীতি করে এসেছি, যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সর্বোচ্চ নেত্রী, সেই নেত্রীকে মেনেই আমরা চলব।”

উল্লেখ্য, বুধবার বিধানসভায় বিরোধী দলের ঘরে বসে ঋতব্রত বলেন, “আমরা মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমাদের প্রধান পরামর্শদাতা হিসাবে থাকবার অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি থাকুন আমাদের পরামর্শদাতা হিসাবে। তাঁর পরামর্শ পেলে আমরা গঠনমূলকভাবে বিরোধীর ভূমিকা খুব ভালো ভাবে পালন করতে পারব।” আর ধন্দ তো সেখানেই।

অর্থাৎ গুলশান মল্লিকের মতো বিধায়কদের বক্তব্য অনুযায়ী, যে চিঠি জমা করা হয়েছে স্পিকারের কাছে, সেই চিঠিতে সইয়ের আগে তাঁদের জানানোই হয়নি, নয়া তৃণমূল ব্লকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরামর্শদাতা, নেত্রী নন! কিন্তু তাঁরা নেত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই চান।

ঠিক তেমনই বললেন, সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সঙ্গীতা বসুনিয়া। তিনি তো সরাসরি বলে দিলেন, এখনও তাঁদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাহলে ঋতব্রত কে? প্রশ্ন করা হলে তাঁর সাফ জবাব, “আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন ছিলেন, তেমনই আছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাপারটা আমি বলতে পারব না। আমি তো দলনেতা নই।”
আবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নেতা মানছেন তিনি। তাহলে আসলে নেতা কে? সেটাই স্পষ্ট করে বলে উঠতে পারলেন না তিনি। ঢোক গিলতে হল তাঁকেও।

তাহলে প্রশ্ন উঠছে, তাঁরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নেত্রী মানছেন, অভিষেক নেতা, তাহলে ঋতব্রত-পন্থীরা চিঠিতে সইয়ের আগে কি জানতেন না, এই দলনেতা ‘কনসেপ্টটা’? কারণ ঋতব্রত বুধবারই বিধানসভায় বসে সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের যে পরিষদীয় দলে কোনও নেতা নেই। এটা একটা টিম। আমরা এই মনোভাবের বিরুদ্ধেই লড়াই করেছি সবাই। এখানে কেউ নেতা নন, একটা টিম। ঘটনাচক্রে একটা জব ডিস্ট্রিবিউশন হতে পারে, কারোর নামের আগে বসতে পারে বিরোধী দলনেতা, কেউ মুখসচেতন, কেউ উপদলনেতা। কিন্তু গোটাটা ৫৮ জনের টিম। আপাতত।” তৃণমূলের অন্দরে এখন বয়ে যাচ্ছে চোরাস্রোত, আর সেই স্রোত কোন দিকে এগোয়, এখন সেটাই দেখার।

Follow Us