
তারাপীঠ: রাতে হোটেলের ভিতর নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছিলেন সকলে। কারও প্ল্যান ছিল পরের দিন তারাপীঠে পুজো দেওয়ার, কেউ আবার পুজো দিয়ে ফেলেছেন বাড়ির ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু গভীর রাতে এমন হাড়হিম ঘটনা ঘটবে কল্পনারও বাইরে। যাঁরা জীবিত রইলেন তাঁদের মধ্যেই একজন বললেন, “আমার বাঁচার কথাই ছিল না…ভগবান বাঁচিয়েছেন। আমার উল্টোদিকের সাতজন মরে গিয়েছে…।” ভগবানের জায়গায় এসে এমন মারত্মক ঘটনা ঘটবে ভাবতে গেলেই এখনও শিউরে উঠছেন অভিশপ্ত সেই হোটেলের আবাসিক তপনজ্যোতি মণ্ডল।
অন্যান্যদের মতো তপনবাবুও পরিবার নিয়ে গিয়েছিলেন তারাপীঠ। যেহেতু শ্রাবণের শেষ সোমবার, সেই কারণে পুণ্য তিথিতে অনেক পুণ্যার্থীই তারাকে পুজো দিতে হাজির হয়েছেন সেখানে। তপনজ্যোতির সঙ্গে ছিলেন তাঁর ৭২ বছরের বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও দশ বছরের দুই সন্তান। সকলের মতো তাঁরাও রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। আর যখন চোখ খুললেন সেই বীভৎস অভিজ্ঞতা।
তিনি বলেন, “যে রিসেপশনে ঘটনাটা ঘটেছে তার পিছনের প্রথম রুমে আমার বৃদ্ধ মা ছিলেন। পরের রুমে আমার স্ত্রী ও দশ বছরের দুই সন্তান ছিল। রাতে হঠাৎ করে এসি বন্ধ, ফ্যান বন্ধ হয়ে গেল। বাইরে পাটকাঠি পোড়ালে যেমন আওয়াজ হয় পট পট পট, তেমন আওয়াজ অনুভব করলাম। এরপর দরজা খুলতে না খুলতেই দেখি আগুন ঢুকে গেল…আমরা বেরতে পারিনি।” তাঁর আরও সংযোজন, “এদিকে দরজা বন্ধ করছি কিন্তু এসির জন্য জানালা-ভেন্টিলেটর কিছুই নেই। না পারছি বেরতে না পারছি কিছু করতে। তারপর বাথরুমে জল চালিয়েছি। আর সেখানকার ফাঁকা অংশ থেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেছি।”
তিনি এও বলেন, “তারপর তারাপীঠ থানা থেকে এসে উদ্ধার করে। আমার বাচ্চারা অজ্ঞান হয়ে যায়। আমার বাঁচার কথা নয়…ভগবান বাঁচিয়েছেন। উল্টোদিকের সাতজন মরে গেছেন। বাচ্চা নিয়ে বেরিয়ে গেছি।”
এখানে উল্লেখ্য, তারাপীঠ থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে পুকুরের ধারে হোটেল। সোমবার সেই হোটেলেই ভোররাতে আচমকা আগুন লাগে। জানা গিয়েছে, ভোররাতে হোটেলের এক তলায় বিদ্যুত সরবরাহের এনসিবিতে হঠাৎ আগুন দেখতে পান হোটেলের কর্মীরা। তারপরই চিৎকার, ডাকাডাকি শুরু করেন তাঁরা। কিন্তু, ততক্ষণে আগুন পুরো ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের বিল্ডিংয়ে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী কমপক্ষে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে।