R G Kar: ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে ‘ভুল’ চিকিৎসা আরজি করে

R G Kar: জানা যাচ্ছে, কিছুদিন আগে লিভারের সমস্যা নিয়ে রোগী তেজ নারায়ণ গুপ্ত আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অভিযোগ, জুনিয়র চিকিৎসক তাঁকে সাতদিন প্যারাসিটামল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। লিভার ক্ষতিগ্রস্ত ক্যান্সার আক্রান্তকে প্যারাসিটামল দেওয়ায় এমনিতেই উচিত নয় বলে চিকিৎসকদের মত।

R G Kar: ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে ভুল চিকিৎসা আরজি করে
ভুল ওষুধ দেওয়ার অভিযোগImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: Avra Chattopadhyay

Jan 29, 2025 | 7:15 PM

কলকাতা: যে রোগীকে যে ওষুধ দেওয়ার নয়, সেই ওষুধই দিয়ে ফেললেন জুনিয়র চিকিৎসক, অভিযোগ তেমনই। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পর এবার আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। আবারও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ। ফের ‘ভুল’ চিকিৎসার অভিযোগ রেডিওথেরাপি বিভাগের জুনিয়র চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

জানা যাচ্ছে, কিছুদিন আগে লিভারের সমস্যা নিয়ে রোগী তেজ নারায়ণ গুপ্ত আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অভিযোগ, জুনিয়র চিকিৎসক তাঁকে সাতদিন প্যারাসিটামল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। লিভার ক্ষতিগ্রস্ত ক্যান্সার আক্রান্তকে প্যারাসিটামল দেওয়ায় এমনিতেই উচিত নয় বলে চিকিৎসকদের মত। তাতে লিভার আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাহলে তিনি কীভাবে প্যারাসিটামল খাওয়ার পরামর্শ দিলেন, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

রোগী বলেন, “আমাকে যেকটা প্যারাসিটামল খেতে বলেছিল, সেকটা খেয়েছি। এখন ডাক্তারিই বুঝবে। আমি যদি মরেই যায়, তাহলেও বা আর কী করার আছে? আমি তো ডাক্তারের ভরসাতেই রয়েছি।”

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত লিভার হলে কোন‌ও ভাবেই প্যারাসিটামল প্রেসক্রাইব করা যায় না। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, জুনিয়র চিকিৎসক যখন এহেন প্রেসক্রিপশন লিখলেন, তাতে কেন নজর দিলেন না সিনিয়র চিকিৎসক? সম্প্রতি গোটা বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে  ইমেল করে জানিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকদেরই একাংশ।  যার প্রেক্ষিতে WBJDFএর মেদিনীপুর মেডিক্যালে যে তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত হয়েছে, এক্ষেত্রেও সেটা উচিত।

এই নিয়ে জুনিয়র চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো বলেন, “চিকিৎসক হিসাবে যেটুকু ধারণা, লিভার ড্যামেজের ক্ষেত্রে এই ওষুধ দেওয়া যায় না। কারণ লিভারের যে মেটাবলিজম হয়, প্যারাসিটামল তাতে টক্সিসিটি বাড়িয়ে দেয়। এখানে চিকিৎসকের অন্য ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল। কেন এই ধরনের ওষুধ দিলেন. তা সম্পূর্ণ তদন্ত করে দেখা উচিত। এই ধরনের অভিযোগ সামনে এলে, সুনির্দিষ্ট জায়গায় জানিয়ে থাকলে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা উচিত।”  জুনিয়র চিকিৎসক কিঞ্জল নন্দ বলেন, “মেদিনীপুরের ঘটনা সবাই জানে, আরএল-এর জন্য ঘটেছে, অথচ ডাক্তারদের বলির পাঁঠা করা হয়েছে, সেখানে দাঁড়িয়ে এই ধরনের রোগীকে প্যারাসিটামল দেওয়া ম্যালপ্র্যাকটিস। কর্তৃপক্ষের দেখা উচিত। স্বাস্থ্যদফতর, মেডিক্যাল কাউন্সিল কী ভাবছে, সেটাও জানা উচিত।”  যদিও বিভাগীয় প্রধানের দাবি, এই রোগীর ক্ষেত্রে কতটা লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটা দেখে কতটা ডোজের প্যারাসিটামল দেওয়া হয়েছে, সেটার চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হবে।

Follow Us