
প্রদীপ্তকান্তি ঘোষ ও সৌরভ গুহর রিপোর্ট
কলকাতা: শনিবার ছিল ‘নব তৃণমূল ব্লক’-এর বৈঠক। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বে ডাকা সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়া তৃণমূলের অনেকে। শনিবার সন্ধ্যায় সেই বৈঠকে হাজির হন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষও। যদিও, রাজ্যে পালা বদলের পর থেকে দেখা যায়নি তাঁকে। তবে, শনিবার বিকেলে হঠাৎই ঋতব্রতদের ডাকা বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি, স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা তৈরি করেছিল। তবে মোড় ঘুরল রাতে। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, পানিহাটির নির্মল অনাহুত। তাঁকে বৈঠকে ডাকাই হয়নি।
তৃণমূল সূত্রে খবর, মেদিনীপুরের নির্মল ঘোষকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডাকা হয়নি পানিহাটির নির্মলকে। ঋতব্রত শিবির বলছে, ‘কেউ ওনাকে ডাকেনি। ওঁকে আমরা নিচ্ছি না।’ যদিও, নির্মল ঘোষ নিজেই জানিয়েছিলেন তিনি আমন্ত্রণ পেয়েছেন।
এ দিন ঋতব্রত বলেন, “নির্মল ঘোষকে আমরা ডাকিনি। তাঁকে ডাকার প্রশ্ন নেই। আমি ওঁকে ঘোরাঘুরি করতে দেখলাম…। উনি অনাহুতের মতো ঘোরাঘুরি করছেন।আমি ভেবেছি রেস্তোরাঁতে এসেছেন।” তিনি আরও বলেন, “আমি তো বলেছিলাম পরিষ্কার, মেদিনীপুরের নির্মল ঘোষ। আর উনি (পানিহাটির নির্মল ঘোষ) বলেছেন যে ওঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উনি জানাক কোন ফোন নম্বর থেকে কল ঢুকেছে।”
এখানে উল্লেখ্য, তোলাবাজির অভিযোগে পানিহাটির এক বড় বার ও হোটেলের মালিক সুশান্ত সরকারকে গ্রেফতার করেছে খড়দহ থানার পুলিশ। এরপর থেকেই প্রাক্তন বিধায়ক এবং বিধানসভার প্রাক্তন মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষের খোঁজ চলছিল। কার্যত বেপত্তা ছিলেন তিনি। কেউ কেউ বলছিলেন, গা ঢাকা দিয়েছেন নির্মল। এমনকী, ফোন ট্র্যাক করেও খোঁজ চলছিল নির্মলের। এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বললেন, ‘গা ঢাকা? কে বলেছে?’ তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছে কি না সেই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন, “হৃদয় তো এখনও মমতার সঙ্গেই আছে। অভিষেকের কথা বলতে পারছি না।”