
সোমা দাস ও সত্যজিৎ মন্ডলের রিপোর্ট
কলকাতা: কলকাতার বুকে হাড়হিম করা ঘটনা। প্রকাশ্য রাস্তায় কুপিয়ে খুন তরুণীকে। মেট্রোপলিটন বাইপাসে রাস্তায় ধাওয়া করে খুন করা হয় তরুণীকে। প্রকাশ্য রাস্তায় গলার নলি কেটে দেওয়া হয় তরুণীর। রাতেই তাঁকে এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আজ, শুক্রবার সকালে তরুণীর মৃত্যু হয়। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে একজন নাবালকও রয়েছে।
খাস কলকাতার বুকে তরুণীকে ধারাল অস্ত্রের কোপ। বৃহস্পতিবার রাতে বাইপাস সংলগ্ন এক জনপ্রিয় রেস্তোরাঁর সামনে ঘটনাটি ঘটে। জনবহুল মেট্রোপলিটন এলাকায় আচমকাই তরুণীর উপরে চড়াও হয় কয়েকজন। তাঁকে ধাওয়া করে ধারাল অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ। প্রাণ বাঁচাতে দৌড় লাগায় তরুণী। রক্তাক্ত অবস্থায় ছুটতে ছুটতেই সাহায্য চান পথচলতি মানুষের কাছে।
পরে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা তরুণীকে উদ্ধার করে এনআরএস হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় এক নাবালক সহ তিন যুবককে।
মৃত তরুণীর নাম রোফিয়া শাকিল (২৪)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই এই ঘটনা। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃত তিনজনের মধ্যে একজনের বয়স মাত্র ১৬।
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত নাবালকের বাবার সঙ্গে আহত তরুণী বাইপাসের ধারে রেস্তোরাঁয় এসেছিলেন। বাইপাস ধাবার কাছে তিন যুবক গাড়ি ফলো করে। রেস্তোরাঁয় সামনে পৌঁছতেই গাড়ি থেকে নেমে তারা তরুণীর উপরে চড়াও হয়। ছুরি দিয়ে আঘাত করে। ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। প্রাণে বাঁচতে এদিক ওদিক দৌড়াতে থাকে তরুণী। স্থানীয়রা জড়ো হয়ে নাবালককে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। উদ্ধার করা হয় তরুণীকে। রাতে তাঁকে এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
অভিযুক্ত নাবালক পুলিশি জেরায় স্বীকার করেছে যে তরুণীর সঙ্গে তাঁর বাবার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। বাবার গাড়িতে জিপিএস ট্র্য়াকার লাগিয়ে রেখেছিল নাবালক। সেই লোকেশন ফলো করেই বাইপাসে রেস্তোরাঁর সামনে পৌঁছয় ও তরুণীকে কোপায়।