
কলকাতা: এবার ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে জনতার দরবারে গায়িকা ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় ও দোলা বন্দ্য়োপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিজেপির সদর দফতরে সল্টলেকে জনতার দরবারে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে সকালেই হাজির হন দুই গায়িকা। বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্পষ্ট জানালেন. ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতেই তাঁদের এখানে আসা। তাঁর পাশেই বসে ছিলেন দোলা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঠিক কীভাবে সিন্ডিকেট চালাতেন ইন্দ্রনীল? ঋদ্ধি বললেন, “ইন্দ্রনীল সেনের সিন্ডিকেট রাজ চলত। মূলত সিনিয়র, জুনিয়র, মাঝ বয়সী শিল্পীদের নিয়ে নেক্সাস চলত। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, বিল রয়েছে। তার মধ্যে সরকারি আধিকারিকরাও যুক্ত ছিলেন। যেহেতু আমরা ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলাম, তাই আমাদের কেউ কেউ ১২-১৮ বছর ধরে ব্যান ছিলাম।”
ঋদ্ধি জানান, অনেক বঞ্চিত শিল্পীদের কথা আমরা দুজনেই এখানে বলতে এসেছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, “আমাদের কোনও চাওয়া-পাওয়া নেই। লবি কালচার, কাটমানি যাতে বন্ধ হয়।” সঙ্গীতেও রয়েছে কাটমানি! কীভাবে নেওয়া হত কাটমানি? তারও ব্যাখ্যা দেন তিনি।
ঋদ্ধি বলেন, “ধরুন কোনও এক জুনিয়র শিল্পীকে সাতটা অনুষ্ঠান দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা সরকারি অনুষ্ঠান ছাড়া অন্য কোথাও কাজ পায় না। আমরা ধরুন নিজেদের দমে বেঁচে আছি এতগুলো বছর। মেলা-খেলার অনুষ্ঠানে ডাক না পেয়েও। ওই শিল্পীরা ৭ কিংবা ১০ টা অনুষ্ঠানের পেমেন্ট পেলেন, তার থেকে কিছুটা ব্যাক করে দিতেন। । যারা তাকে সকাল থেকে হুজুর হুজুর বলে ফোন ঘোরাত, টাকা দিত, গিফট দিত, সময় দিত, সঙ্গ দিত… । কিছু কিছু শিল্পী আছেন, তাঁরা কাজ পেয়েছেন সরকারের সঙ্গে সেটিং করে’। ” গোটা বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে জানাতে এসেছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগে সোচ্চার হন দুই শিল্পী। সে সময়ে ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে TV9 বাংলার তরফ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, “এই বিষয় নিয়ে তাঁর কোনও মন্তব্য করাটাই আমার রুচিতে বাধে। আমি সেভাবে বড় হইনি।”