
কলকাতা: চিনির দাম (Sugar Price) বাড়ছে। একটু আধটু নয়, একলাফে অনেকটাই। গত জুলাই মাসে যে চিনির দাম কেজি প্রতি ৪৫ টাকা ছিল, আজ অগস্ট শেষ না হতেই সেই দাম ছুঁয়েছে ৬৫ টাকা। অর্থাৎ এক মাসে কেজি প্রতি প্রায় ২০ টাকা করে বেড়েছে চিনির দাম। কলকাতা সহ বাংলার প্রায় সব বাজারেই একই ছবি। গুড়, বাতাসা, নকুল দানা থেকে শুরু করে প্রায় সব মিষ্টির দামই বাড়তে শুরু করেছে। দাম নিয়ন্ত্রণে তরপর হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কেন আচমকা এই মূল্যবৃদ্ধি? পেট্রোলে ইথানল মেশানোর সিদ্ধান্তই কি কাল হল?
৪৫-৪৬ টাকা থেকে চিনির দাম কেজি প্রতি বেড়ে ৬০-৬৫ টাকা হয়েছে। আখের গুড়ের দাম বেড়ে ৪০ থেকে ৬০-৬৫-তে পৌঁছেছে। কলকাতা পোস্তা বাজার থেকে বাঁকুড়া বা উত্তর ২৪ পরগনা, সর্বত্র একই ছবি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ৪-৫ টাকা বাড়লেও অসুবিধা হয় না, কিন্তু একলাফে এত টাকা বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। পাইকারি বাজারে চিনি কিনতে গিয়ে চমকে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫ টাকা করে দাম বেড়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণের আর্জি জানাচ্ছেন তাঁরা।
পরিবেশবান্ধব দ্রব্য হিসেবে পেট্রোলের সঙ্গে ইথানল মেশানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আখ থেকে একাধিক ধাপে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তৈরি হয় এই ইথানল। আবার আখ থেকেই তৈরি হয় চিনি। প্রশ্ন উঠছে, ইথানল তৈরি করতে গিয়ে আখের জোগান কমে যাচ্ছে? চিনিকলগুলি কি চিনি উৎপাদনে বদলে ইথানল প্রক্রিয়াকরণে মন দিয়েছে? সেই কারণেই কি বাড়ছে দাম? এমন অভিযোগ তুলেছেন, আপ নেতা অরবিন্দ কেজরীবালও।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ সুপর্ণ মৈত্র বলেন, “২ মাসে ৪০ শতাংশ বেড়েছে চিনির দাম। উৎপাদন কমেছে। ব্রাজিল থেকে চিনি কম আসছে। এই পরিস্থিতিতে শুল্ক ছাড় দিয়ে আমদানি করার কথা ভেবেছে সরকার।”
তবে শুধুমাত্র ইথানলের জন্য দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন না অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ দত্ত। তিনি মনে করছেন, ইথানল অবশ্যই একটা কারণ, তবে শুধুমাত্র তার জন্যই এতটা মূল্যবৃদ্ধি হওয়ার কথা নয়। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আখ চাষেরও ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, “ইথানলকে অজুহাত করে যদি একদল অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়ান, সেটা দুর্ভাগ্যজনক। সে ক্ষেত্রে প্রত্যেকের সুবিধা হলে।” যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সব জিনিসের দাম বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। জাতীয় স্বার্থে চিনির দাম বাড়ছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও পুলিশকে নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।
রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “পেঁয়াজ, চিনির দাম বাড়ছে কারণ এগুলোর সিন্ডিকেট চলে। এগুলি বাইরে থেকে আসে। অনেক রকমের চক্রান্ত চলছে।” তাঁর মতে, ইথানলের জন্য আলাদা প্লান্ট তৈরি করা হয়েছে, আলাদা করে চাষ হচ্ছে। তাই ইথানলের জন্য চিনির দাম বাড়ছে, এটা বলা যায় না।
কেন্দ্রীয় শুল্ক ছাড় দিয়ে চিনি আমদানি করার ব্যবস্থা করছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ১০ ক্ষ মিলিয়ন টন চিনি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশে উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই এই চিনি আমদানির কথা ভেবেছে সরকার।
সৌভিক সরকার, হীরক মুখোপাধ্যায়, দীপঙ্কর দাসের রিপোর্ট